মার্কিন নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন মুসলিম তরুণী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম
ছবি ; সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ২৭ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম তরুণী নাবিলা সৈয়দ। বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর ডার্বি হিলসকে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির এই প্রার্থী। নির্বাচনে নাবিলা পেয়েছেন ৫৭ শতাংশ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ডার্বি হিলস পেয়েছেন ৪৩ শতাংশ।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রায় ৯৪ শতাংশ ভোট গণনার পর এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
জয়ের পর সমর্থকদের উদ্দেশে নাবিলা বলেন, তাঁদের প্রচার দলের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকেরা মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা নিয়ে কথা বলতে পেরেছেন। শুধু ভোটে জয়ের আকাঙ্ক্ষা নয়, বরং সহমর্মিতা ও সহানুভূতিকে গুরুত্ব দিয়েই তাঁরা প্রচার চালিয়েছেন।
ইলিনয়ের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরতলির এই আসনে নির্বাচন অঙ্গরাজ্যের আইনসভা নির্বাচনের ইতিহাসে অন্যতম ব্যয়বহুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই ছিল। ইলিনয়ভিত্তিক সংস্থা রিফর্ম ফর ইলিনয়ের নির্বাহী পরিচালক আলিসা কাপলান জানান, দুই প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারে মোট ৬৫ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে।
কাপলানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নাবিলা নির্বাচনী প্রচারে অন্তত ৪৭ লাখ ডলার অনুদান পেয়েছেন। এর বড় অংশ এসেছে তাঁর নিজ দল থেকে। ইলিনয় ডেমোক্রেটিক পার্টি ও ইলিনয় সিনেট ডেমোক্রেটিক ফান্ড থেকে তিনি ৩০ লাখ ডলারের বেশি অনুদান পেয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন থেকেও উল্লেখযোগ্য অর্থ পেয়েছেন।
অন্যদিকে ডার্বি হিলস পেয়েছেন ১৮ লাখ ডলার। নির্বাচনে বিপুল অর্থ ব্যয়ের সমালোচনা করে ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে ‘অসৎ কৌশল’ অবলম্বনের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর দল ইলিনয় সিনেট রিপাবলিকান ক্যাম্পেইন সর্বশেষ গত আগস্টে তাঁকে ৩ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছিল।
নাবিলার বিরোধিতায় গত মাসে ‘স্ট্রং ইন্ডিপেনডেন্ট লিডারশিপ কমিটি’ নামে একটি রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটিও গঠন করা হয়। চরমপন্থি প্রার্থীদের বিরোধিতা করে শক্তিশালী ও স্বাধীন নেতৃত্ব নিশ্চিত করাই ছিল কমিটির ঘোষিত লক্ষ্য। নর্থ ব্যারিংটনের ভিন্স ফোগলিয়া কমিটিটি গঠন করেন এবং এতে ৫ লাখ ডলার অনুদান দেন। আলাদাভাবে ফোগলিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যরাও ডার্বি হিলসের প্রচারে ৫ লাখ ডলার দেন।
রাজনীতিতে নাবিলার উত্থান
২৭ বছর বয়সী নাবিলা সৈয়দ ২০২১ সালে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্কলে ক্যাম্পাস থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। একই বছর তিনি ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদের ৫১তম ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন।
ইলিনয়ের আইনসভায় নির্বাচিত সবচেয়ে কম বয়সী নারী এবং অল্প কয়েকজন মুসলিম সদস্যের একজন ছিলেন নাবিলা।
অন্যদিকে ড্যান ম্যাককনচির পদত্যাগের পর তাঁর আসনে নিয়োগ পেয়েছিলেন ৫০ বছর বয়সী ডার্বি হিলস। এর আগে তিনি সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে কাজ করেছেন। ২০২১ সালে ‘মিসেস ইলিনয় আমেরিকা’ খেতাবও জিতেছিলেন ডার্বি। নির্বাচনী প্রচারে জননিরাপত্তা, বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা, কর কমানো এবং সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।
প্রচারের সময় নাবিলার বয়স ও অভিজ্ঞতাকে নির্বাচনী ইস্যু করেন ডার্বি। প্রচারের শেষ দিকে নাবিলাকে নিজ নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করার জন্য ‘অতিরিক্ত চরমপন্থি’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে নির্বাচনী প্রচারে মুসলিমবিরোধী মনোভাবের সমালোচনা করেন নাবিলা। তিনি বলেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইতে গেলে মানুষের কাছ থেকে বিদ্বেষপূর্ণ, ভীতিকর ও হুমকিমূলক কথা শুনতে হয়েছে। নিজের বেড়ে ওঠার এলাকায় তাঁকে প্রমাণ করতে হচ্ছে যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই জন্মগ্রহণ করেছেন।
নাবিলা জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার। এ ছাড়া ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর আরও নজরদারি বাড়ানোর বিষয়ে দুই প্রার্থীই একমত ছিলেন।
সূত্র: শিকাগো সান টাইমস
