গোলাম পরওয়ার
ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই ইসলামী আন্দোলনের মূল লক্ষ্য
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১১:২৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, মানবকল্যাণ, আল্লাহর ইবাদত এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই ইসলামী আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে আদর্শিক, নৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শনিবার (১৮ জুলাই) গাজীপুরের সফিপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা সেক্রেটারি ও সহকারী সেক্রেটারিদের তিন দিনব্যাপী শিক্ষা শিবিরের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মহান আল্লাহ মানুষকে কেবল ব্যক্তিগত জীবনযাপনের জন্য সৃষ্টি করেননি; বরং মানবকল্যাণে কাজ করা, তাঁর ইবাদত করা এবং পৃথিবীতে খেলাফতের দায়িত্ব পালন করাই মানুষের প্রকৃত দায়িত্ব। এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য আদর্শভিত্তিক সংগঠন গড়ে তুলে দ্বীনের প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, একটি সংগঠনের শক্তি নির্ভর করে দায়িত্বশীলদের আদর্শিক দৃঢ়তা, চারিত্রিক উৎকর্ষ এবং সাংগঠনিক দক্ষতার ওপর। তাই দায়িত্বশীলদের আত্মশুদ্ধি, জবাবদিহিতা, ত্যাগের মানসিকতা ও আদর্শিক চেতনা নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীলদের সংগঠনের প্রাণশক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের প্রতিটি আচরণ ও কর্মকাণ্ড সংগঠনের আদর্শের প্রতিফলন ঘটায়। ব্যক্তিগতভাবে আখিরাতে সফলতার পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার, ইনসাফ এবং আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়াও তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে গোলাম পরওয়ার বলেন, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যক্তি গঠনের পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কার নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানিয়ে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
এ সময় তিনি আরও বলেন, দলীয়করণ, স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা ও ক্ষমতার এককেন্দ্রিকতার পরিবর্তে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ন্যায়বিচার, সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং জনগণের মতামতের যথাযথ প্রতিফলন নিশ্চিত হবে। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের নৈতিক নেতৃত্ব ও আদর্শিক দৃঢ়তার মাধ্যমে এ পরিবর্তনে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।
অতীতের দায়িত্বশীলদের ত্যাগ ও কোরবানির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের আদর্শ বাস্তবায়নে অনেকেই জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের আদর্শ অনুসরণ করে ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাপনী অধিবেশনে আরও বক্তব্য দেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ এইচ এম আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মাওলানা ছামিউল হক ফারুকী এবং গাজীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. জাহাঙ্গীর আলম। বক্তারা আদর্শিক নেতৃত্ব, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
