‘জুলাইয়ের অর্জন কারো একার নয়, এটি ১৮ কোটি মানুষের’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই গণ-আন্দোলনের অর্জন কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একার নয়; এটি দেশের ১৮ কোটি মানুষের সম্মিলিত অর্জন। তিনি বলেন, আন্দোলনের শহিদরা কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নন, তারা জাতির সম্পদ। তাই জুলাইয়ে শহিদ ও আহতদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সম্মান এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট তৎকালীন সরকার অন্যায়ভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই গণআন্দোলনের মুখে সেই সরকার ক্ষমতা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। তার ভাষ্য, জনগণের আন্দোলন এবং আল্লাহর ইচ্ছাতেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।
আরো পড়ুন: রাজধানীতে ৫ আগস্ট মহাসমাবেশ করবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট
তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছেন শ্রমিকরা। জাতিসংঘের তথ্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রায় ১ হাজার ৪০০ শহীদের মধ্যে পেশাভিত্তিক হিসেবে শ্রমিকের সংখ্যাই ছিল সবচেয়ে বেশি। এরপর ছাত্র ও সাধারণ জনগণ আত্মত্যাগ করেছেন।
সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, দেশে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি কমার পরিবর্তে বেড়েছে। বিশেষ করে পরিবহন শ্রমিকরা এখনও চাঁদাবাজদের হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর, গাড়ি ভাঙচুরসহ নানা ধরনের হয়রানির অভিযোগও করেন তিনি। একই সঙ্গে সরকারের এক জ্যেষ্ঠ নেতার দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার স্বীকারোক্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, এমন পরিস্থিতিতে সরকারের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক ভিত্তি কতটা রয়েছে।
পরিবহন শ্রমিকদের উত্থাপিত ১২ দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় শ্রমিকদের এসব দাবি তুলতে হয়েছে। জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী পাশে থাকবে বলেও তিনি জানান।
আরো পড়ুন: আমরা শেষ দেখে ছাড়ব: নাহিদ ইসলাম
জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে একক দাবি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এটি কোনো একক দলের আন্দোলন ছিল না; বরং পুরো জাতির আন্দোলন। একই সঙ্গে আহত ও স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করা আন্দোলনকারীদের পুনর্বাসন এবং সম্মান নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
গণভোটের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ যে রায় দিয়েছে, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সবাইকে তা মেনে নিতে হবে। জনগণের রায় অস্বীকার করা মানে জনগণকে অসম্মান করা। জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত এলে তার বিরোধিতা করা হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান এবং বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি কবির আহমদ।
