ডা. শফিকুর রহমান
জুলাই যোদ্ধাদের গায়ে হাত দেবেন না, এটা হবে চরম নিমকহারামি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের দমন-পীড়ন না চালানোর জন্য সরকারের প্রতি কঠোর আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, যাদের আত্মত্যাগ, সাহস ও সংগ্রামের মাধ্যমে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হলে তা জাতির সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হবে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আজাদী সংগ্রামের পটভূমিতে জুলাই বিপ্লব ২০২৪’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনে আহত অনেক মানুষ এখনো গুরুতর শারীরিক জটিলতা নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিদেশে চিকিৎসাধীন কয়েকজনের অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেকে আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন না। তাদের আত্মত্যাগ যেন ক্ষমতার রাজনীতির আড়ালে হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সরকারকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস নিরপেক্ষভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। ব্যক্তি বা দলের পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে প্রত্যেকের অবদান ইতিহাসে যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য ইতিহাস জানতে পারে।
মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো তৈরি হয়নি। একই ভুল যেন ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের ক্ষেত্রে না হয়, সেজন্য সরকারকে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও বক্তব্যের সঙ্গে বর্তমান অবস্থানের অমিল দেখা যাচ্ছে। জনগণের রায় ও গণভোটের ফলাফলকে সম্মান জানানো একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, হত্যা, গুম, নির্যাতন ও রাজনৈতিক মামলাগুলোর বিচারপ্রক্রিয়া প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না। একই সঙ্গে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর চালুর বিষয়ে সরকারের ঘোষণার বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার ভাষ্য, জুলাইয়ের ইতিহাস ও আত্মত্যাগকে আড়াল করার কোনো চেষ্টা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না।
তিনি বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজন হলে জামায়াতে ইসলামী তাতে প্রস্তুত। তবে জনগণের অধিকার, গণরায় ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে জামায়াত আমির বলেন, প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও তারা প্রস্তুত। জনগণের বিশ্বাসের সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
