প্রধানমন্ত্রীকে ঠিক করতে হবে তিনি কীভাবে ক্ষমতা ছাড়বেন, সম্মানের সঙ্গে না হেলিকপ্টারে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২০ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ গ্রাফিক্স
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঠিক করতে হবে তিনি কীভাবে ক্ষমতা ছাড়বেন। হাসিনার মতো হেলিকপ্টারে যাবেন নাকি সম্মানের সঙ্গে ক্ষমতা ছাড়বেন বলে মন্তব্য করেছে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
লংমার্চের পক্ষে গণজোয়ার শুরু হয়েছে উল্লেখ করে এনসিপির আহ্বায়ক অভিযোগ করেন, গণজোয়ার প্রতিরোধ করতে গতকাল রাত থেকে লংমার্চের পথে থাকা ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে এই কাজে যোগ দিয়েছে সিটি করপোরেশন। ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে লংমার্চের গণজোয়ার বন্ধ করা সম্ভব হবে না।
বিএনপি ক্ষমতায় এসে মানবাধিকার হরণ করে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব ছিল মানবাধিকার রক্ষা করা। কিন্তু তারা মানবাধিকার হরণ করছে। যারা অতীতে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে, তাদের স্থান হয়েছে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে।
আরো পড়ুন: ‘এ সরকার বিএনপির না, হাসিনার’
নাহিদ ইসলাম বলেন, সংসদের সর্বশেষ অধিবেশনে সরকার গুম আইন, মানবাধিকার আইন পাস করেছে। র্যাবের নাম বদলে এসআরবি করেছে। সরকারের কাজ মানবাধিকারের সুরক্ষা দেওয়া, কিন্তু তারা মানবাধিকার হরণ করার সব ধরনের প্রেক্ষাপট তৈরি করছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ঢাকা টু চট্টগ্রাম ঐতিহাসিক লং মার্চ সফল করার পর আজ আমরা শুরু করতে যাচ্ছি ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশে আমাদের সেই ঐতিহাসিক লংমার্চ। রংপুরের আজকের এই ঐতিহাসিক লংমার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃত্বে, আট দফা দাবিতে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকার জনগণের অধিকার হরণ করত যেসব আইন এবং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে, বর্তমান সরকারও ঠিক একই আইন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করতে শুরু করেছে। আমরা বলতে চাই, বিগত ১৬ বছর আমরা লড়াই করেছিলাম মানবাধিখারের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য। আপনারা আমাদের সঙ্গে ছিলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা জানি, এরশাদও সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করেছিলেন। ফলে তারেক রহমানকে তার যাওয়ার রাস্তা নিজেকেই বাছাই করে নিতে হবে।
বিরোধী দলের লংমার্চে দফা বাড়ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সব দফা গিয়ে ঠেকবে এক দফায়। এ জন্য প্রস্তুতি নিতে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যদি দাবি মেনে না নেওয়া হয়, তাহলে আমাদের ৮ দফা এক দফায় পরিণত হতে পারে। তখন কোনো ষড়যন্ত্র কাজে আসবে না। আমরা কথা দিচ্ছি জনগণের দাবি আদায় করে ঘরে ফিরব, ইনশাআল্লাহ।
আরো পড়ুন: জাতির প্রয়োজনে আন্দোলন এক দফায় রূপ নিতে পারে
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আাজকে আমাদের দ্বিতীয় দফার লংমার্চ। এরমধ্যে অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে। মাথা গরম করবেন না, জনগণের গণদাবি মেনে নিন।
এলডিপির প্রেসিডেন্ট ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, দেশে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী বন্ধ হয়ে যাবে এজন্য বিএনপি কর্মীদের ঘরে ঘরে হাহাকার শুরু হয়ে গেছে। এ সরকার বিএনপির সরকার না হাসিনার সরকার। আমরা লংমার্চ করছি দেশকে সঠিক পথে আনার জন্য। কোনো মুনাফেকের কথায় বিপথগামী হবেন না।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, সরকারকে পরিস্কারভাবে বলছি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করতে হবে। রায় বাস্তবায়ন না করলে ইতিহাসে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদের উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী, আমার বাংলাদেশ পার্টির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু,বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান; জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।
আরো পড়ুন: রংপুর অভিমুখে ১১ দলের লংমার্চ শুরু
হাজার হাজার জনতার উপস্থিতিতে উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে সকাল ৮টার দিকে লংমার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। এ সময় রাস্তার দুধারে দাঁড়িয়ে হাজারো নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বহরকে অভিবাদন জানায়।
পথে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস রোড, টাঙ্গাইলের নগর জলফৈ বাইপাস রোড, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়, বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভায় যোগ দেবে লংমার্চের বহর এবং সবশেষ রংপুরের জিলা স্কুল মাঠে লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
