এবার সিএনএনসহ ৩ গণমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগ তুলে এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সংবাদমাধ্যম তিনটির বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিষয়ে সংবাদ পরিবেশনের সময় তাদের ‘কাল্পনিক ও মিথ্যা তথ্য’ লেখা বা প্রচারের সুযোগ থাকা উচিত নয়। একই সঙ্গে আরও কিছু ‘ভুয়া খবর’ প্রচারকারী সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দেন।
ট্রাম্পের ওই পোস্টের পর শুক্রবার বিকেলেও তিনটি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের হোয়াইট হাউসে কাজ করতে দেখা যায়। হোয়াইট হাউসের এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ফক্স নিউজ জানায়, শনিবার থেকে ওই তিনটি প্রতিষ্ঠানের হোয়াইট হাউস চত্বরে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে।
আরও পড়ুন: ইয়েমেনে একদিনে সৌদি আরবের ২৬টি বিমান হামলা
ট্রাম্প বলেন, কোনো সুনির্দিষ্ট ঘটনার কারণে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের ‘সমষ্টিগত প্রভাবই’ এর কারণ।
আরও কোন সংবাদমাধ্যম একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে জানতে চাইলে ট্রাম্প নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্টের নাম উল্লেখ করেন এবং সেগুলোকে ‘ভুয়া খবর’ হিসেবে অভিহিত করেন।
ট্রাম্পের ঘোষিত নিষেধাজ্ঞার পরিধি তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। এ ধরনের পদক্ষেপের বৈধতা এর ব্যাপ্তির ওপর নির্ভর করতে পারে। আদালতগুলো ওভাল অফিসের বৈঠক বা ছোট আকারের সাংবাদিক দলের (প্রেস পুল) মতো নির্দিষ্ট কিছু আয়োজনে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টদের ব্যাপক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা স্বীকার করেছে। তবে হোয়াইট হাউসের সাধারণ সংবাদ-সুবিধা বা সাংবাদিকতার স্বীকৃতির ক্ষেত্রে ব্যাপক বর্জনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা প্রথম সংশোধনী ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সুরক্ষার আওতায় আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
হোয়াইট হাউস ও সংবাদমাধ্যমের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিনের রীতি ও ঐতিহ্যে পরিবর্তন এনেছে। প্রশাসন প্রেসিডেন্টের কাছে অনেক বড় সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে এবং এর বিপরীতে প্রশাসনের প্রতি সহানুভূতিশীল বলে মনে করা নতুন সংবাদমাধ্যমগুলোর উপস্থিতি বাড়িয়েছে।
সিএনএন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহে দায়িত্ব পালনকারী তাদের সাংবাদিকদের পাশে তারা দৃঢ়ভাবে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, সরকারের কোনো বাধা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই সংবাদ পরিবেশনের অধিকার মার্কিন সংবিধান তাদের দিয়েছে। ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে তা ওই মৌলিক ও সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত অধিকারের ওপর বেআইনি আঘাত হবে বলেও জানিয়েছে ।
পলিটিকো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, তারা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ হোয়াইট হাউসের বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে সংবাদ পরিবেশন অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে প্রথম সংশোধনীর অধীনে তাদের অধিকার সীমিত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তারা জোরালোভাবে অবস্থান নেবে বলে জানিয়েছে। এমএস নাও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশনের অ্যাডভোকেসি প্রধান সেথ স্টার্ন বলেছেন, সরকারের সমালোচনা করার কারণে সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করার চেয়ে প্রথম সংশোধনীর আরও গুরুতর লঙ্ঘন কল্পনা করা কঠিন।
