বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তার সঙ্গে কী হয়েছিল আখতারুজ্জামানের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার একপর্যায়ে নিরাপত্তা কর্মকর্তার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের কথাকাটাকাটি ও শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজীব বাদী হয়ে দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলাটি করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে মদিনা থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীরা ঢাকায় আসেন। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলি সংকট দেখা দেয় এবং লাগেজ পেতে দেরি হয়। এতে যাত্রীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে যান। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, সেখানে আখতারুজ্জামান তাঁর সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়ান এবং তাঁকে হুমকি দেন। বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী সম্পর্কেও অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগ রয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা কয়েকজন প্রটোকল সহকারী বিমানবন্দরের সংরক্ষিত (কেপিআই) এলাকায় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। সেখানে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাঁদের ভিডিও ধারণে নিষেধ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আখতারুজ্জামান ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে গালাগাল করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। তবে ঘটনাটি সিসিটিভির আওতায় ছিল না বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করা হবে।
এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক প্রতিনিধির সঙ্গে আখতারুজ্জামানের মারমুখী আচরণ এবং সাধারণ যাত্রীদের ট্রলিতে থাকা জমজমের পানির বোতল ছুড়ে ফেলার অভিযোগও করা হয়েছে।
মামলায় দণ্ডবিধির ১৮৬, ১৮৯, ২৯৪, ৩২৩, ৩৫২, ৩৫৩, ৫০৪ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব ধারায় সরকারি কাজে বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, আঘাত, অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ, ইচ্ছাকৃত অপমান ও হুমকির মতো অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ, অন্যান্য আলামত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হবে।
