জামায়াত আমির
কানেক্টিভিটির নামে বাংলাদেশকে কারও কাছে ইজারা দেওয়া চলবে না
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
ছবি : সংগৃহীত
কানেক্টিভিটির নামে বাংলাদেশকে কারও কাছে ইজারা দেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, অতীতে যারা দাসত্ব স্বীকার করেছিল, এখন তাদের সেই পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে। তাদের তো ‘দিদি’ ছিল, আপনাদের কে আছে? জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে পার পাওয়া যাবে না।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফর প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, দুই দিন আগে চার দিনের সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন। কী উদ্দেশ্যে তিনি বিদেশে গিয়েছিলেন এবং কী করে এসেছেন, তা জাতির সামনে স্পষ্ট করতে হবে। বিশেষ করে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে কোনো লুকোচুরি হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে জাতি পরিষ্কারভাবে জানতে চায়।
তিনি বলেন, তারা কোনো দলীয় বা ব্যক্তিগত দাবি নিয়ে মাঠে নামেননি। এসব দাবি জনগণের এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তির সঙ্গে সম্পর্কিত। সেই দাবিগুলো নিয়েই তারা কর্মসূচি পালন করছেন। মহান আল্লাহর রহমতে জনগণের সমর্থন ও ভালোবাসায় আগের দুটি লংমার্চ সফল হয়েছে উল্লেখ করে তিনি তৃতীয় লংমার্চও সফল করার জন্য দোয়া করেন।
জামায়াত আমির বলেন, সাত দফা দাবির মধ্যে মূল দাবি হলো গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন। এই গণরায় বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণেই বাকি ছয় দফার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তার বিশ্বাস, মূল দাবিটি বাস্তবায়ন হলে অন্য ছয়টি দাবি সামনে আসত না। একই সঙ্গে চাঁদাবাজ, দখলদার, দুর্নীতিবাজ ও মাদক কারবারিরাও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারত না।
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপি জাতিকে হতাশ করেছে এবং জনগণের সঙ্গে ঐতিহাসিক প্রতারণা করেছে। কথা দিয়েও কথা রাখেনি। জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে মিথ্যাচার করেছে এবং জাতির আকাঙ্ক্ষা ও গণরায়কে উপহাস করেছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে বিএনপিকে গণরায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, তা না হলে দলটিকে উচ্চ মূল্য দিতে হতে পারে। বিএনপি সম্ভবত সেই পথেই এগোচ্ছে।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, বিএনপি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়নি। অতীতের স্বৈরাচারী শাসনের ইতিহাস কিংবা নিজেদের ভুল থেকেও তারা কোনো শিক্ষা নেয়নি। বরং প্রতিদিন নতুন নতুন সমস্যা তৈরি করে জাতিকে ভোগান্তিতে ফেলছে।
বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দাবিগুলো মেনে নিয়ে সুস্থ ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসতে হবে। আগামী ৯ তারিখ সংসদ অধিবেশন বসার আগেই ভুল সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের ঘোষণা দিতে হবে। এমন ঘোষণা দেওয়া হলে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আপাতত আর কোনো কর্মসূচি নেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
তিনি বলেন, দাবি মেনে নেওয়া না হলে জনগণের দাবি এবং ৭০ শতাংশ মানুষের ভোটের মর্যাদা রক্ষায় তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। কোনোভাবেই এই গণরায়কে অপমানিত হতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহত্তর ত্যাগের জন্য জাতিকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, বিশেষ করে যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষাকে পদদলিত করা হচ্ছে। তাদের কারও প্ররোচনায় বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষ্য, যুবসমাজ রাজপথে লড়াই করে জাতিকে সাময়িক মুক্তি এনে দিয়েছে। এই মুক্তিকে দীর্ঘস্থায়ী করতে তাদের আবারও লড়াই করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব দেশের দরজায় কড়া নাড়ছে। সেই বিপ্লবের জন্য মুক্তিকামী দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে লংমার্চ সফল করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন এবং অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী, আমার বাংলাদেশ পার্টির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।
