ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ৩৬ বাংলাদেশি যুবক
শেখ কাজিম উদ্দিন, বেনাপোল (যশোর) থেকে
প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
ছবি : ভোরের কাগজ
ভারতে বিভিন্ন সময়ে আটক ও কারাভোগ শেষে ৩৬ বাংলাদেশি নাগরিককে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ মে) বিকেলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হরিদাসপুর চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
হস্তান্তর-সংক্রান্ত নথি সূত্রে জানা যায়, ভারতের চেন্নাইয়ে বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি ও এইচওসি কর্তৃক ইস্যুকৃত ট্রাভেল পারমিট এবং তিরুচিরাপল্লী (আরবান) এফআরও’র এক্সিট পারমিটের ভিত্তিতে তাদের দেশে ফেরানো হয়। এ সময় দুই দেশের বিজিবি, বিএসএফ, পুলিশ ও মানবপাচার প্রতিরোধ সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, ফেরত আসা এসব ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে দালালের প্রলোভনে পড়ে ভালো কাজের আশায় অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। পরে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হলে আদালতের নির্দেশে তাদের বিভিন্ন শেল্টার হোমে রাখা হয়। পরবর্তীতে দেশটির বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা দুই দেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়।
আরো পড়ুন : ঈদের দিন সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু
বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ পরিদর্শক সৈয়দ মোর্তজা জানান, দেশে ফেরত আসাদের ট্রাভেল পারমিটসহ যাবতীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেন বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে ফেরত আসাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে মানবাধিকার সংস্থা যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, রাইটস যশোর ও বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছে।
যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ভলান্টিয়ার শফিকুল ইসলাম জানান, পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। তারা না আসা পর্যন্ত ফেরত আসাদের সংস্থার হেফাজতেই রাখা হবে।
জানা গেছে, ফেরত আসা ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশই বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম থানার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। এছাড়া সাতক্ষীরা, মুন্সিগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও নওগাঁ জেলার কয়েকজন রয়েছেন।
ফেরত আসাদের মধ্যে রয়েছেন—
বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম থানার কুন্দারহাট এলাকার তেঘুরি গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে সালিম হোসাইন, আসাদুজ্জামানের ছেলে হৃদয় হোসাইন, হায়দার আলীর ছেলে ইমন আলী, দিলবরের ছেলে জিয়াউল, তোতা মিয়ার ছেলে আশিক, বেলাল সরকার, সিরাজের ছেলে রানা প্রকাশ বাবু, মোফাজ্জল মিয়ার ছেলে ফারুক হোসাইন, মোফাজ্জল মিয়ার ছেলে ফিরোজ হোসাইন, মিজানুর রহমান মন্টুর ছেলে রোজোব আলী, ইয়াকুব আলীর ছেলে বিপুল আহমেদ, ইনসান আলী জাইদের ছেলে নূর মোহাম্মদ আলী, মোফাজ্জল হোসাইন জাইদের ছেলে সবুজ মিয়া।
একই থানার ভাটগ্রাম এলাকার দিলবরের ছেলে জিয়াউল, আমজাদ হোসাইনের ছেলে আসাদুল, খালেকের ছেলে সালিম, চাঁন মিয়ার ছেলে হাবিল সরদার এবং কুন্দারহাটের পশ্চিমপাড়া গ্রামের আফসার ইসলামের ছেলে শফিকুল ইসলাম।
এছাড়া নন্দীগ্রাম থানার বিরপল্লী এলাকার চাঁদ মিয়ার ছেলে করিম, সোবহান আলীর ছেলে আব্দুল কুদ্দুস এবং সিংড়া খালাশ এলাকার শাহজাহান আলীর ছেলে সালমান হোসাইন ও খোরশেদ আলমের ছেলে জেলহাক রয়েছেন।
এ ছাড়া বগুড়া জেলার শাহজাহানপুর থানার দেশমা-খরনা এলাকার আবু সাঈদের ছেলে রব্বি, কাহালু থানার জামগ্রাম এলাকার জালাল উদ্দিনের ছেলে সাঈদে, নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের কামালের ছেলে আশরাফুল এবং নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার আমরুল কসবা এলাকার সাত্তার বাগের ছেলে আলী বাগ। মুন্সিগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার কালির আটপাড়া এলাকার আইনাল মাতবরের ছেলে শুভ মাতবর।
সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম নারায়ণপুর এলাকার আনসার আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম এবং খানজিয়া এলাকার প্রয়াত রজম আলীর ছেলে রওশন আলী।সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঘোষপাড়া এলাকার শামসুর রহমানের ছেলে খায়রুল ইসলাম, ব্রহ্মরাজপুরের বড় খামার এলাকার বজলুর রহমানের ছেলে আবুল হোসাইন, ঘোষপাড়ার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে আমিনুর রহমান এবং জিগরা এলাকার ফারুক হোসাইনের ছেলে সোহেল ইসলাম।
চট্টগ্রাম জেলার জোরারগঞ্জ থানার নয়টিলা নূর আলীপুর এলাকার নুর আলমের ছেলে মুন্না ওরফে নূর করিম এবং ভুজপুর থানার চিকনছড়া উত্তর রসুলপুর এলাকার সিদ্দিক মিয়ার ছেলে শাহাবুদ্দিন হোসাইনও রয়েছেন ফেরত আসাদের তালিকায়।
