শিরীন শারমিনের গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া নিয়ে আসকের উদ্বেগ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া নিয়ে আসকের উদ্বেগ জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) আসকের এক বিবৃতিতে আসক শিরীন শারমিনের গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা ও অনিয়মতান্ত্রিকতার অভিযোগও এনেছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাতে ধানমন্ডিতে আত্মীয়ের বাসায় অবস্থানকালে সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বলছে, মধ্যরাতে একজন নারীকে এভাবে আটক দেখানো যৌক্তিক নয়। দিনের বেলায় স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল কি না, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
আসক জানিয়েছে, আদালতে উপস্থাপনের সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ন্যূনতম শৃঙ্খলা ও মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ঘাটতির কারণে তাকে হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়ে যেতে দেখা গেছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিচার প্রার্থী প্রত্যেক ব্যক্তির নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্বের অংশ।
সংস্থাটি মনে করে, গ্রেপ্তার ও হেফাজতে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন, ফৌজদারি কার্যবিধি এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
উল্লেখ্য, আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) ২০২৫ সালের মে মাসে জানিয়েছিল, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নিরাপত্তাজনিত কারণে ৬২৬ জন ব্যক্তি সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেই তালিকায় ডঃ শিরীন শারমিনের নামও ছিল। তবে তার অবস্থান নিয়ে পরবর্তী সময়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ না হওয়ায় বিষয়টি জনপরিসরে আলোচনার জন্ম দেয়। হঠাৎ করে তাকে আটক করার ঘটনায় নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
আসক বলছে, রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গ—আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন ও বিচার বিভাগ—মানবাধিকার সুরক্ষায় সাংবিধানিকভাবে দায়বদ্ধ। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকারের জন্য এই দায় আরও তাৎপর্যপূর্ণ, বিশেষত যখন নির্বাচনী অঙ্গীকারে আইনের শাসন ও সাংবিধানিক অধিকারের নিশ্চয়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
তাদের মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই অঙ্গীকারের কার্যকর প্রতিফলন নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে প্রত্যেক নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্রীয় আচরণে ন্যায়, স্বচ্ছতা ও মানবিকতা প্রতিফলিত হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছে আসক।
