মানি লন্ডারিং মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে হরিদাস চন্দ্র
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মানি লন্ডারিং মামলায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে চার দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত।
সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) কে এম রাকিবুল হুদা আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের আবেদন জানিয়ে বলেন, মামলায় মানি লন্ডারিংয়ের সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই এবং হরিদাস মন্দির পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত। শুনানি শেষে নথি পর্যালোচনা করে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।
আদালতে হরিদাস চন্দ্র বলেন, ‘আমি একজন কৃষক ছিলাম, এখন মন্দির পরিচালনা করি। মন্দির করে যদি অপরাধী হই, তাহলে কিছু করার নেই। ভক্তদের দেওয়া অর্থ অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা যেতে পারে।’
মামলার আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, হরিদাস চন্দ্রের নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অর্থের উৎস ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, হরিদাস চন্দ্রসহ সংশ্লিষ্টরা হুন্ডি ও দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারের সঙ্গে জড়িত। অনুসন্ধানে তার পাঁচটি ব্যাংক হিসাব ও চারটি এমএফএস হিসাবে সন্দেহজনকভাবে ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা জমার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
গত ১২ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার সিআইডির একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্যরামচন্দ্রপুর (নয়াপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা।
সিআইডির করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ব্যাংক হিসাব ও অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অপরাধলব্ধ অর্থ স্থানান্তর ও রূপান্তরের সঙ্গে তিনি জড়িত। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
সম্প্রতি গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় আসেন হরিদাস চন্দ্র। পরে মূর্তির অর্থায়ন, জমির মালিকানা ও অনুমোদন নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ জুন মন্দির কর্তৃপক্ষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির স্বার্থে রামমূর্তি নির্মাণকাজ স্থগিতের ঘোষণা দেয়।
