ইরানের বিপ্লবী গার্ডকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাজ্য
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। সোমবার (১৩ জুলাই) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (হোম অফিস) এ ঘোষণা দিয়ে জানায়, দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা মূল্যায়ন ও গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হোম অফিসের বিবৃতিতে বলা হয়, আইআরজিসিসহ কয়েকটি সংগঠনের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং অভ্যন্তরীণ স্বার্থের জন্য হুমকি সৃষ্টি করার অভিযোগ রয়েছে। এসব কার্যক্রম বিবেচনায় নিয়ে সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করা প্রয়োজন বলে সরকার মনে করছে।
নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে যুক্তরাজ্যে আইআরজিসির পক্ষে প্রচারণা চালানো, আর্থিক সহায়তা দেওয়া কিংবা সংগঠনটির প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানানো ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। সরকার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির ভূখণ্ডে সংঘটিত কয়েকটি নিরাপত্তা-হুমকির ঘটনার পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের দাবি, যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্যাটেলাইট টেলিভিশন ইরান ইন্টারন্যাশনাল-এর দুই সাংবাদিককে হত্যার পরিকল্পনা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর ধারাবাহিক সাইবার হামলার ঘটনায় আইআরজিসির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
আইআরজিসির পাশাপাশি আরও দুটি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। এর মধ্যে রয়েছে ‘ইসলামিক মুভমেন্ট অব দ্য কমপ্যানিয়নস অব দ্য রাইট’ (আইএমসিআর), যার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে ইহুদি সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ‘রাশিয়ান ফেডারেশন ভলান্টিয়ার কর্পস’ (জিআরইউ) নামের আরেকটি সংগঠনকেও নিষিদ্ধ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যেটিকে রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করেছে ব্রিটিশ সরকার।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আইআরজিসিকে নিষিদ্ধ না করার পূর্ববর্তী কনজারভেটিভ সরকারের নীতির অবসান ঘটছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ যুক্তরাজ্য ও ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
এর আগে ব্রিটিশ কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছিলেন, আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হলে তেহরানে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারসহ পাল্টা কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে পারে ইরান। এতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা স্বার্থেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
