নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
‘দেশ যখন বন্যার পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তখন সেলফি তোলায় ব্যস্ত’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সমালোচনা করে বলেছেন, দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষ যখন বন্যার পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে, তখন প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে পাচ্ছি তিনি স্ত্রীর সঙ্গে সেলফি তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। আমরা এর ধিক্কার জানাই। দেশের মানুষ এখন বন্যার পানিতে ভেসে সব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছে।
রোববার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় জুলাই পথসভা শেষে নিয়ামতপুর উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে অস্থায়ী মঞ্চে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরো বলেন, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে গেলেও এখনও তার বিচার হয়নি। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার বিচার দাবি করে বলেন জুলাই আন্দোলনে নিহতদের রক্তের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। দেশে সংস্কার ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার বাস্তবায়ন না হলে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে একটি দলের রাজনৈতিক নেতারা নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পর জনগণের পাশে নেই। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরা এককভাবে নির্বাচন করবো। আমরা অন্যায়ের সাথে কোন আপস করি না, ন্যায়ের পথে থাকতে চায়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রার্থিতা বাতিল করা হবে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ২৪ শে গণঅভ্যুত্থানে আপনারা রাজপথে নেমেছিলেন গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য, তার বিনিময়ে আমরা কি পেয়েছি। আমরা চেয়েছিলাম সংস্কারের মাধ্যমে দেশে একটা ভালো শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হবে, আমরা চেয়েছিলাম স্বাধীন বিচার বিভাগ, স্বাধীন পুলিশ বিভাগ। কিন্তু দুঃখের বিষয় কোন বিভাগই আজ স্বাধীন নেই।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং যুবশক্তির নিয়ামতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নিশাত আহমেদ সভায় সভাপতিত্ব করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিক, যুগ্ম আহ্বায়ক ও নারীশক্তির আহবায়ক মনিরা শারমিন, রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন, যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ সোহেল, যুগ্ম সদস্য সচিব সাকিব মাহাদীসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সভার শুরুতেই আকস্মিক বন্যায় আহত ও শহীদদের আত্মার মাগফিরাত চেয়ে দোয়া ও এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
