বাংলাদেশসহ যেসব দেশ নিয়ে নাগরিকদের সতর্ক করল ইসরায়েল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম
ফাইল ছবি
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলিদের ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠী ও ব্যক্তিদের হামলার ঝুঁকি অব্যাহত রয়েছে বলে সতর্ক করেছে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল। ইহুদিদের আসন্ন ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে এ ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
গত রোববার প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় কয়েকটি দেশে ইসরায়েলিদের ভ্রমণ ও অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নামও রয়েছে। যদিও বাংলাদেশের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এবং দেশটির নাগরিকদের বাংলাদেশে যাতায়াতও অত্যন্ত সীমিত।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলিদের ওপর সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি নিয়ে নতুন মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল। এতে বলা হয়েছে, সামনে ইহুদিদের বেশ কয়েকটি পবিত্র দিন থাকায় বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলিদের লক্ষ্য করে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও ব্যক্তিদের হামলার আশঙ্কা রয়েছে।
ইসরায়েলি নিরাপত্তা কাউন্সিলের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরান, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলিদের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলি পণ্যে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
বিশেষ করে ২০২৬ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার তিন বছর পূর্তি ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বড় ধরনের বিক্ষোভ হতে পারে। এসব বিক্ষোভের কিছু ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় রূপ নেওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের দাবি, হামাস ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলে ইসরায়েলিদের লক্ষ্য করে হামলার প্রস্তুতি ও তৎপরতা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের হুতিদের পক্ষ থেকেও আফ্রিকা মহাদেশে ইসরায়েলিদের ওপর হামলার হুমকি রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের মতে, ইরানের আশপাশের দেশগুলোতে ইসরায়েলিদের ওপর হামলার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। এর মধ্যে আজারবাইজান, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া জর্ডান, কাতার, সোমালিল্যান্ড এবং মিসর—সিনাই উপত্যকাসহ—ইসরায়েলিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। এসব দেশে ভ্রমণ না করা এবং বর্তমানে অবস্থানরত ইসরায়েলিদের সেখান থেকে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কোনো ইসরায়েলি নাগরিকের এসব দেশে বিমানের ট্রানজিট থাকলে বিমানবন্দর থেকে বের না হওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
যেসব দেশে ভ্রমণ নিষিদ্ধ
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরাক, কুর্দিস্তান, ইয়েমেন, ইরান, সিরিয়া ও লেবাননে ইসরায়েলিদের ভ্রমণ আইনত নিষিদ্ধ। সৌদি আরবের ক্ষেত্রেও একই নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ইসরায়েলিদের ক্ষেত্রেও এসব বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, লিবিয়া, আলজেরিয়া ও সোমালিয়াকেও ইসরায়েলিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল। এসব দেশে ভ্রমণ না করার জন্য ইসরায়েলি নাগরিকদের প্রতি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের এই সতর্কতার মূল কারণ হিসেবে বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলিদের লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলা, বিক্ষোভ ও সহিংসতার আশঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
