নতুন পে-স্কেলে পেনশন নিয়ে বড় সুখবর
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
নবম জাতীয় পে-স্কেলে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিন আগে অবসরে যাওয়া এবং তুলনামূলক কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের আর্থিক স্বস্তি দিতে নিট পেনশন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে এ সুবিধা সবার ক্ষেত্রে একই হারে কার্যকর হবে না। যাদের পেনশন কম, তাদের বৃদ্ধির হার বেশি হবে। অন্যদিকে, বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম রাখা হবে। এতে পুরোনো ও কম পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্তরা তুলনামূলক বেশি আর্থিক সুবিধা পাবেন।
আরও পড়ুন: পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ঘিরে যা জানা যাচ্ছে
তবে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে বহুল আলোচিত ‘এক পদ এক পেনশন’ বা ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ (ওআরওপি) ব্যবস্থা এবারই পুরোপুরি চালু হচ্ছে না। সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারীদের জন্য ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থবিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এখনই নয় ‘এক পদ এক পেনশন’
সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে সামরিক ও বেসামরিক- দুই ক্ষেত্রেই ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ চালুর কথা বলা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য হলো একই পদ বা গ্রেড থেকে ভিন্ন সময়ে অবসরে যাওয়া ব্যক্তিদের পেনশনের মধ্যে থাকা বড় ধরনের বৈষম্য কমিয়ে আনা।
বর্তমান ব্যবস্থায় অনেক বছর আগে অবসরে যাওয়া একজন কর্মচারী একই পদে বর্তমানে অবসরে যাওয়া ব্যক্তির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম পেনশন পান। ওআরওপি চালু হলে একই পদ বা গ্রেডের অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে পেনশনের এই বৈষম্য অনেকটাই কমে আসবে।
আরও পড়ুন: সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে নতুন বিধিনিষেধ, কমল কোটা
তবে বিপুল আর্থিক ব্যয় এবং প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতির কারণে এখনই পুরোপুরি এ ব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে না।
এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, সামরিক ও বেসামরিক- উভয় ক্ষেত্রেই একই সময়ে ওআরওপি বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে এটি কার্যকর করতে গেলে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে।
এর পাশাপাশি, ২০১৯ সালের আগে অবসরে যাওয়া বেসামরিক কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য সরকারের হাতে পর্যাপ্ত না থাকায় একবারে ওআরওপি বাস্তবায়ন করাও সম্ভব হচ্ছে না।
এ কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে ‘এক পদ এক পেনশন’ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
পেনশনে স্বস্তি, তবে ধাপে ধাপে
নবম পে-স্কেলের মাধ্যমে কম পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক স্বস্তির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে বহু বছর আগে অবসরে যাওয়া যেসব সরকারি কর্মচারী বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় কম পেনশন পাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনের প্রভাব বেশি পড়বে।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে
অন্যদিকে, ‘এক পদ এক পেনশন’ ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হতে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে পেনশন বৈষম্য দূর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
