২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনা তদন্তে হাইকোর্টে রিট
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির অভিযোগের ঘটনায় তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট দ্বৈত বেঞ্চে এ রিট দায়ের করেন।
রিটকারী আইনজীবী জানান, বাজারে প্রচলিত ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হওয়ার তথ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক। তাই বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের আবেদনও জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি পরিবেশবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) এক বছরের গবেষণার ফল প্রকাশ করে জানায়, দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে সংস্থাটি।
আরও পড়ুন: যে ৮ টুথপেস্টে পাওয়া যায়নি কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক
ইএসডিও জানায়, গবেষণার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ২ হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপর জরিপ চালানো হয়। পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি ল্যাবরেটরিতে স্টিরিওমাইক্রোস্কোপি এবং ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কোপি (FTIR) প্রযুক্তি ব্যবহার করে নমুনা পরীক্ষা করা হয়।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, পরীক্ষাধীন ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে উৎপাদিত ২৫টির মধ্যে ২২টি, ভারতে উৎপাদিত পাঁচটির মধ্যে একটি, থাইল্যান্ডে উৎপাদিত দুটি টুথপেস্টের মধ্যে একটি এবং ভিয়েতনামে উৎপাদিত দুটি টুথপেস্টের উভয়টিতেই এই ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশুদের জন্য বাজারজাত ছয়টি টুথপেস্টের চারটিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে, যা বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে সর্বোচ্চ ৩২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেল-এ। এছাড়া ক্লোজআপ রেড হট ও ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ-এ ১৬০টি করে, কুডুমু আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা স্ট্রবেরি-তে ১৪০টি, সিগন্যাল গ্রিন টি-তে ১২০টি, পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট ও হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ার-এ ১০০টি এবং সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্ট-এ ৮০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইউনিলিভারের ৮ টুথপেস্টে মিলেছে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক
শিশুদের টুথপেস্টের মধ্যে কুডুমু আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা-তে ১৪০টি, মেরিল বেবি স্ট্রবেরি-তে ৬০টি, মেরিল বেবি অরেঞ্জ-এ ৪০টি এবং পেপসোডেন্ট কিডস অরেঞ্জ-এ ২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।
তবে গবেষণায় কয়েকটি টুথপেস্টে কোনো শনাক্তযোগ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে রয়েছে জেনফ্রেশ, প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাংগো), ক্লোজআপ রেড হট জিংক ফ্রেশ টেকনোলজি এবং শিশুদের জন্য আমদানিকৃত কুডুমু অরেঞ্জ। এসব পণ্যে পরীক্ষায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ইএসডিও।
