ইন্টারনেট স্লো করার নির্দেশ দিয়েছিলেন কাদের, অনুমতি দেন শেখ হাসিনা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রথম দফায় ইন্টারনেটের গতি কমানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ বিষয়ে সে সময়ের আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে শেখ হাসিনার অনুমতি নেওয়ার কথাও বলতে শোনা যায় তাকে। কাদের ও পলকের এমন একটি ফোনালাপকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।
রোববার (৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ ফোনালাপের কল রেকর্ডটি দাখিল করা হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে তৃতীয় দিনের মতো যুক্তিতর্ক চলছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
তার সঙ্গে রয়েছেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, সুলতান মাহমুদ ও সহিদুল ইসলাম সরদার। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।
দাখিল করা ফোনালাপে ওবায়দুল কাদেরকে বলতে শোনা যায়, ‘নেটটা একটু স্লো করে দাও।’ জবাবে পলক বলেন, ‘একটু নেত্রীর পারমিশনটা নিয়ে নিই?’ তখন কাদের বলেন, ‘নিয়ে নাও।’ কথোপকথনের একপর্যায়ে পলক জানান, শেখ হাসিনার অনুমতি নিয়ে বিষয়টি করতে হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের আরেকটি ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়। ওই কথোপকথনে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করে প্রসিকিউশন।
এ মামলায় আসামি সাতজন। ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্যরা হলেন: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। মামলার সব আসামিই পলাতক।
