সালমান শাহ হত্যা মামলা
ডন কারাগারে, আদালতে যা বলল রাষ্ট্রপক্ষ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খলচরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে (৫৪) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী।
এর আগে দুপুরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সালমান শাহ হত্যা মামলায় তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় ইমিগ্রেশন থেকে সিআইডিকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে সিআইডি তাকে হেফাজতে নেয়।
বিকেলে ডনকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক আরিফুর রহমান।
আরও পড়ুন: মুয়াজ্জিন থেকে যেভাবে ঢাকাই সিনেমার খলনায়ক ডন
আবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে ডনসহ অন্য আসামি ও অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান এবং ডন দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়াও চলমান। জামিনে মুক্তি পেলে তিনি তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারেন এবং পুনরায় আত্মগোপনে যেতে পারেন। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।
বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে ডনকে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়। এ সময় তাকে রাগান্বিত দেখা যায়। পাঁচ মিনিট পর বিচারক এজলাসে আসেন। বিচারক আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী আছেন কি না জানতে চাইলে শুনানিতে ডনের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
শুনানিতে পিপি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলা। ডন ৪ নম্বর আসামি। আজ ডন দেশ থেকে পালিয়ে যাচ্ছিলেন। ইমিগ্রেশন থেকে তাকে আটক করা হয়।
পিপি বলেন, ‘ঘটনার দিন সালমান শাহর পরিবার তাঁর সঙ্গে দেখা করতে ইস্কাটনের বাসায় যান। কিন্তু তার স্ত্রী সামিরা হক তাদের ঢুকতে দেননি। রাতে প্রোডাকশন ম্যানেজার বলেন, সালমান শাহর কিছু একটা করা হয়েছে, আপনারা আসেন। এ সময় সালমান শাহর পরিবার গিয়ে দেখে, তার লাশ সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছে। পরে তারা মামলা করে। এ মামলায় ডন ৪ নম্বর আসামি।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, সালমান শাহর ছোট ভাইকে অপহরণ করার চেষ্টা করা হয়। পরে ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা হয়। রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ স্বীকারোক্তি দেন, সামিরার সঙ্গে ডনের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। ডন, ফারুক ও রেজভি ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে সালমান শাহকে হত্যা করেন। তারা প্রথমে সালমান শাহকে অচেতন করেন এবং পরে আত্মহত্যা দেখানোর জন্য তাঁকে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এই আসামিকে (ডন) ছেড়ে দেওয়া হলে তিনি পালাতে পারেন। আদালত শুনানি শেষে ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
জানা গেছে, চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার কারণে ডনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। ইমিগ্রেশন থেকে জানানোর পর সিআইডি তাকে হেফাজতে নেয়।
২৯ বছর পর হত্যা মামলা
সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা ও জল্পনা রয়েছে।
তার মৃত্যুর প্রায় ২৯ বছর পর গত বছর আদালত হত্যা মামলা করার নির্দেশ দেন। পরে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে গত বছরের অক্টোবরে রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, অভিনেতা ডনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। অন্য আসামিরা হলেন সামিরার মা লতিফা হক, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে।
