×

আইন-বিচার

গৃহবধূকে ব্ল্যাকমেইল ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড

Icon

​দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম

গৃহবধূকে ব্ল্যাকমেইল ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত

​জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে এক গৃহবধূর ছবি বিকৃত করে আপত্তিকর ছবি তৈরির মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল ও একাধিকবার ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

​সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আব্দুর রহিম আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। ​দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নের  নিমাইমারী গ্রামের আশকর আলী (৪০) ও জাহিদুল ইসলাম (৩৫)।

​রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি ফজলুল হক জানান, ভুক্তভোগী গৃহবধূ এবং আসামিরা একই গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে আসামিরা ওই নারীকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু তিনি তাদের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তারা তাকে ফাঁদে ফেলার পরিকল্পনা করেন।

​মামলার সূত্র ধরে জানা যায়, আসামিরা প্রথমে ওই নারীর ছবি বিকৃত করে আপত্তিকর ছবি তৈরি করেন। পরে সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে মানসিকভাবে চাপে রাখেন। পাশাপাশি তার স্বামী ও সন্তানকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এসব ভয়ভীতি দেখিয়ে আশকর আলী বিভিন্ন সময়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করেন। ​ঘটনার ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের ৩১ মার্চ রাতে ভুক্তভোগীর স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে দুই আসামি জোরপূর্বক তার বসতঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় জাহিদুল ইসলামের সহযোগিতায় আশকর আলী ওই গৃহবধূকে আবারও ধর্ষণ করেন।

​একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর স্বামী বাড়িতে ফিরে তা দেখে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে আসামিরা স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই মারধর করেন। তাদের ডাকচিৎকার শুনে এক প্রতিবেশী এগিয়ে এলে তাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে আসামিরা মুঠোফোনে আপত্তিকর দৃশ্য ধারণ করে এবং ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

​ঘটনার পর দীর্ঘদিন ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে থাকার পর পরিবারটি অবশেষে আইনের আশ্রয় নেয়। ২০২২ সালের ১০ এপ্রিল ভুক্তভোগী গৃহবধূর ছেলে বাদী হয়ে দেওয়ানগঞ্জ থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ​মামলাটি তদন্ত শেষে পুলিশ আশকর আলী ও জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।

​বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ, চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি এবং মামলার অন্যান্য উপাত্ত পর্যালোচনা করেন। মোট ৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই সাজা প্রদান করেন।

​রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুল হক বলেন, এটি একটি নৃশংস ও মানবতাবিরোধী অপরাধ। আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন। এই রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারটি দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষিত বিচার পেল।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

শর্তপূরণ না হওয়া পর্যন্ত বন্ধই থাকবে হরমুজ

শর্তপূরণ না হওয়া পর্যন্ত বন্ধই থাকবে হরমুজ

শাক-সবজির আড়ালে গাঁজা চাষ, তারপর যা হলো

শাক-সবজির আড়ালে গাঁজা চাষ, তারপর যা হলো

৭২ শিক্ষানবিশ এএসপিকে বিভিন্ন ইউনিটে পদায়ন

৭২ শিক্ষানবিশ এএসপিকে বিভিন্ন ইউনিটে পদায়ন

প্রতিবন্ধী শিশুর ভাতার বই পেতে ২২ হাজার টাকা ঘুষ দাবি

প্রতিবন্ধী শিশুর ভাতার বই পেতে ২২ হাজার টাকা ঘুষ দাবি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App