×

আইন-বিচার

জুলাই শহীদ শাহরিয়ারের মৃত্যু, বাবার হৃদয়বিদারক সাক্ষ্য

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৪ পিএম

জুলাই শহীদ শাহরিয়ারের মৃত্যু, বাবার হৃদয়বিদারক সাক্ষ্য

ছবি : সংগৃহী

জুলাই গণ অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গুলিতে নিহত তরুণ শাহরিয়ার হোসেনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেছিলেন। তবে তার মৃত্যু সনদ দিতে অপারগতা প্রকাশ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের বাবা মো. মনির হোসেন। এমনকি মরদেহ সাদা কাপড়ে ঢেকে নিয়ে যাওয়ার এবং পথে কাউকে গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি না বলার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানিয়েছেন।

বুধবার (১৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১-এ সাক্ষ্য দেওয়ার সময় ২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময়কার ওই ঘটনার বর্ণনা দেন মনির হোসেন। ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন।

মোহাম্মদপুরের ক্ষুদ্র কাঁচামাল ব্যবসায়ী মনির হোসেনের বড় ছেলে ছিলেন শাহরিয়ার হোসেন।

আন্দোলনে গিয়ে গুলিবিদ্ধ শাহরিয়ার

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মনির হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণ–আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন তার ছেলে শাহরিয়ার। ওই সময় আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা গুলিবর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরে তার দুই ভাগনে এসে শাহরিয়ারের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহরিয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান তার বাবা।

মৃত্যু সনদ না দেওয়ার অভিযোগ

মনির হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা শাহরিয়ারকে মৃত ঘোষণা করলেও মৃত্যু সনদ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে মরদেহ সাদা কাপড়ে ঢেকে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

পথিমধ্যে কাউকে শাহরিয়ার গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এ কথা না বলতেও চিকিৎসকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল বলে আদালতে দাবি করেন মনির হোসেন।

তার এমন বক্তব্যে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় আহত ও নিহতদের চিকিৎসা পাওয়ার পরিস্থিতি এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

হত্যার জন্য যাদের দায়ী করলেন বাবা

ছেলের মৃত্যুর জন্য আওয়ামী লীগকে সরাসরি দায়ী করেন মনির হোসেন। একই সঙ্গে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়ী করেন তিনি।

ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরের ঘটনাগুলো নিয়ে করা মামলায় মোট আসামি রয়েছেন ২৮ জন। তাদের মধ্যে চারজন বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সাবেক আনসার সদস্য মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সাবেক সহসভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং যুবলীগ কর্মী কে এম ফজলে রাব্বী।

অন্যদিকে সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৪ আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, পুলিশ সদর দপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং মোহাম্মদপুর অঞ্চলের সাবেক এডিসি রৌশানুল হক সৈকতসহ আরও অনেকে। 

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

খাস জমিতে মহিষ চরাতেও চাঁদা, ছাত্রদল নেতার গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভ

খাস জমিতে মহিষ চরাতেও চাঁদা, ছাত্রদল নেতার গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভ

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে জনগণের নাভিশ্বাস

নূরুল ইসলাম বুলবুল দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে জনগণের নাভিশ্বাস

রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ ব্যাংকে ছয় মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৬ হাজার কোটি টাকা

রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ ব্যাংকে ছয় মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৬ হাজার কোটি টাকা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোট দিতে ৯ নির্দেশনা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোট দিতে ৯ নির্দেশনা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App