×

আইন-বিচার

নুসরাত হত্যা

১৬ জনের ফাঁসির আদেশ দেওয়া সেই বিচারককে সরানোর নির্দেশ

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম

১৬ জনের ফাঁসির আদেশ দেওয়া সেই বিচারককে সরানোর নির্দেশ

ফাইল ছবি

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নিম্ন আদালতের রায় যথাযথ ছিল না বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, ওই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন বিচারক মামুনুর রশিদ যথাযথ বিচারিক মানসিকতা প্রয়োগ করেননি। তাঁকে ফৌজদারি মামলার বিচারকাজ থেকে সরিয়ে দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) নুসরাত হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের রায় ঘোষণার সময় বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ পর্যবেক্ষণ ও আদেশ দেন।

হাইকোর্টের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খালাস পেয়েছেন ১০ আসামি। মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম।

আরও পড়ুন: নুসরাত হত্যা মামলায় ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল

২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন বিচারক মামুনুর রশিদ নুসরাত হত্যা মামলার রায় দেন। ওই রায়ে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। পরে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে আসামিরা পৃথকভাবে জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল করেন।

যেভাবে হত্যা করা হয় নুসরাতকে

২০১৯ সালের ২৭ মার্চ যৌন হয়রানির অভিযোগে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা করেন নুসরাতের মা শিরীন আখতার। ওই মামলায় অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাঁর অনুসারীরা তাঁকে কারাগার থেকে মুক্ত করার জন্য বিভিন্নভাবে জনমত গঠনের চেষ্টা করে।

৩ এপ্রিল কারাগারে সিরাজ-উদদৌলার সঙ্গে তাঁর অনুসারীরা দেখা করে এবং হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করে। পরদিন মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

আরও পড়ুন: নুসরাত হত্যা মামলায় যে চারজনের যাবজ্জীবন

৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে নুসরাতকে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের তৎকালীন বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যান।

এ ঘটনায় তাঁর ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান হত্যা মামলা করেন।

নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা

নুসরাত হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিদের মধ্যে ছিলেন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নুর উদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।

বিচারিক আদালতের রায়ের পর ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর ডেথ রেফারেন্সের জন্য মামলার রায়সহ নথিপত্র হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছায়। পরে এটি ১৪০/১৯ নম্বর ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার দিয়ে এর পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়। পাশাপাশি আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

নতুন সাজে নজর কাড়লেন মডেল জেবা জান্নাত

নতুন সাজে নজর কাড়লেন মডেল জেবা জান্নাত

যেসব কারণে ডনের ৭ দিনের রিমান্ড চায় সিআইডি

সালমান শাহ হত্যা যেসব কারণে ডনের ৭ দিনের রিমান্ড চায় সিআইডি

হাইকোর্টের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে যা বললেন নুসরাতের ভাই

হাইকোর্টের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে যা বললেন নুসরাতের ভাই

মহাসড়কে প্রাইভেট কারকে ধাক্কা, ২০০ মিটার টেনে নিল ট্রাক

মহাসড়কে প্রাইভেট কারকে ধাক্কা, ২০০ মিটার টেনে নিল ট্রাক

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App