হাইকোর্টের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে যা বললেন নুসরাতের ভাই
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে প্রাথমিকভাবে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ও নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা ও মাদ্রাসাছাত্র শাহাদাত হোসেনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
রায়ের পর মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, নিম্ন আদালতে মামলার ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। হাইকোর্ট তাদের মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন, কয়েকজনকে যাবজ্জীবন দিয়েছেন এবং ১০ জনকে খালাস দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তারা আদালতের রায়ের প্রতি আস্থা রাখছেন। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা কী নেওয়া হবে, তা আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, অপরাধীদের চূড়ান্ত শাস্তি দ্রুত কার্যকর হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংস অপরাধ করার সাহস কেউ পাবে না।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা শিরীন আখতার। পরে পুলিশ অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে।
আরও পড়ুন: নুসরাত হত্যা মামলা: যাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট
অভিযোগ রয়েছে, কারাগারে থাকা অবস্থায় নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে নুসরাতকে কৌশলে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় নুসরাতকে প্রথমে ফেনী জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ৮ এপ্রিল নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ২৮ মে অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং ২০ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলার ১৬ আসামির প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করেন।
