নুসরাত হত্যা মামলা
হাইকোর্টের রায়ে যে অসঙ্গতি দেখছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
ফাইল ছবি
ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল এবং চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে হাইকোর্টের রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
শিশির মনির বলেন, নুসরাতকে কে, কোথায় এবং কীভাবে হত্যা করেছে, রায়ে সে বিষয়ে কিছু বিষয় স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। তবে তিনতলার সাইক্লোন শেল্টারের মতো একটি স্থানে নুসরাতকে আগুন দেওয়ার পর আশপাশের কেউ কোনো শব্দ শুনতে পেলেন না—এ বিষয়টি এখনো রহস্যজনক।
আরও পড়ুন: ১৬ জনের ফাঁসির আদেশ দেওয়া সেই বিচারককে সরানোর নির্দেশ
তিনি বলেন, ‘একা একা আগুন লেগে গেল, আশপাশের কেউ জানল না, কেউ শব্দ পেল না—এই অংশের রহস্য থেকেই গেছে।’ এসব বিষয় নিয়ে তারা আপিল করবেন এবং আপিল বিভাগে গিয়ে রহস্যের সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মৃত্যুকালীন জবানবন্দি নিয়ে প্রশ্ন
আসামিপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, নুসরাত মৃত্যুর আগে জবানবন্দি দিয়েছিলেন এবং সেটির অডিও ও ভিডিও রেকর্ড রয়েছে। হাইকোর্টে ওই অডিও-ভিডিও উপস্থাপনের জন্য তিনি আবেদনও করেছিলেন বলে জানান।
শিশির মনিরের দাবি, মৃত্যুকালীন জবানবন্দিতে নুসরাত বোরকা পরা চার নারী বা মেয়ের কথা বলেছিলেন। কিন্তু হাইকোর্টের রায়ে সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে জুবায়ের সাইফুর রহমান ও শাহাদাত হোসেন শামীম পুরুষ।
তিনি বলেন, ওই চারজনের মধ্যে নারী হিসেবে শুধু পপি সাজা পেয়েছেন। বাকি তিনজন নারী থেকে কীভাবে পুরুষ হয়ে গেলেন—এ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আপিল বিভাগে এসব বিষয় তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি।
বোরকা কেনা নিয়েও প্রশ্ন
বোরকা কেনার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিশির মনির। তাঁর ভাষ্য, বোরকা কেনার দায়িত্বে থাকার অভিযোগে কামরুন নাহার মনিকে আসামি করা হয়েছিল। কিন্তু হাইকোর্ট তাঁকে খালাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে বোরকা বিক্রেতাদের সাক্ষ্য নেওয়া হলেও তারা কামরুন নাহার মনিকে চিনতেন না বলে আদালতে জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: নুসরাত হত্যা মামলা: যাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট
শিশির মনির প্রশ্ন তোলেন, কামরুন নাহার মনি খালাস পেলেন এবং বোরকা বিক্রেতারাও তাঁকে চিনতেন না—তাহলে বোরকা এল কোথা থেকে? মামলার বর্ণনা অনুযায়ী, কামরুন নাহার মনি ছাড়া অন্য কেউ বোরকা নিয়ে আসেননি। ফলে বোরকার উৎস নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায় বলে দাবি করেন তিনি।
কোনো ফৌজদারি মামলায় অতিরিক্ত মিডিয়া ট্রায়াল হলে নিম্ন আদালতের বিচারকদের জন্য স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন শিশির মনির।
তিনি বলেন, অনেক সময় বিচার শুরুর আগেই টেলিভিশন বা জনপরিসরে একটি মামলার বিচার হয়ে যায়। এ ধরনের পরিস্থিতি প্রকৃত ন্যায়বিচারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
নিম্ন আদালতের রায় নিয়েও প্রশ্ন
শিশির মনির বলেন, নুসরাত হত্যা মামলায় বিচারিক আদালত ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। কিন্তু হাইকোর্টে এসে ১০ জন খালাস পেয়েছেন এবং বাকি ছয়জনের মধ্যে মাত্র দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। তাঁর মতে, এই পরিবর্তন নিম্ন আদালতের রায়ের যথার্থতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে।
তিনি জানান, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাবেন তারা। সেখানে মামলার বিভিন্ন অসঙ্গতি, নুসরাতের মৃত্যুকালীন জবানবন্দি এবং অন্যান্য প্রশ্ন তুলে ধরা হবে।
