শিশুদের স্ক্রিন টাইম, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ১১:২৫ এএম
ছবি : সংগৃহীত
অধিকাংশ মা-বাবাই চিন্তিত কারণ শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের স্ক্রিনে কাটানো সময়ের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে। ভিডিও দেখা, গেম খেলা, বন্ধুদের সঙ্গে চ্যাট করা বা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করা- সব মিলিয়ে ডিজিটাল ডিভাইস এখন দৈনন্দিন জীবনের বড় অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রযুক্তি অনেক সুবিধা দিলেও, অভিভাবকদের বুঝতে হবে কখন স্ক্রিন ব্যবহার স্বাস্থ্যকর এবং কখন তা শিশুর সুস্থতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
সিওপি (চাইল্ড অনলাইন প্রোটেকশন) প্যারেন্টাল কন্ট্রোল অ্যাপের মনোবিজ্ঞানী সিন্ধু ইউ ওয়াধওয়ার মতে, স্ক্রিন টাইম নিয়ে আলোচনায় শুধু ঘণ্টা গণনার চেয়ে স্ক্রিন কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং তা শিশুর দৈনন্দিন জীবনে কী প্রভাব ফেলছে, সেটি বোঝা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সব স্ক্রিন টাইমই ক্ষতিকর নয়
মিসেস ওয়াধওয়া বলেন, শিক্ষামূলক কনটেন্ট দেখা, সৃজনশীল কাজ করা, নতুন দক্ষতা শেখা বা পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা—এসবই ইতিবাচক হতে পারে। সমস্যা তখনই তৈরি হয় যখন স্ক্রিন ব্যবহার ঘুম, শারীরিক কার্যকলাপ, সামাজিক মেলামেশা ও সুস্থ বিকাশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিককে প্রতিস্থাপন করতে শুরু করে।
মনোযোগ ও একাগ্রতায় প্রভাব
অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে প্রথম যে বিষয়গুলো প্রভাবিত হয় তার মধ্যে মনোযোগ অন্যতম। দ্রুতগতির ছোট কনটেন্টে অভ্যস্ত হলে শিশুদের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে, যা পড়াশোনা ও অন্যান্য একাডেমিক কাজে প্রভাব ফেলে।
মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব
আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার শিশুদের মানসিক ও আবেগিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ডিভাইস বন্ধ করা হলে বিরক্তি, রাগ বা মেজাজ পরিবর্তনের মতো আচরণ দেখা দিতে পারে। কিশোরদের মধ্যে অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার আত্মসম্মান কমে যাওয়া, উদ্বেগ এবং অন্যদের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করার প্রবণতা বাড়াতে পারে।
ঘুমের সমস্যা
স্ক্রিন টাইমের আরেকটি বড় প্রভাব পড়ে ঘুমে। অনেক শিশু রাত পর্যন্ত ডিভাইস ব্যবহার করে, ফলে তাদের ঘুমের মান কমে যায়। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মনোযোগ, মেজাজ এবং সামগ্রিক মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা কমে যাওয়া
অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার শিশুদের বাস্তব জীবনের সামাজিক ও শারীরিক অভিজ্ঞতা থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে। মুখোমুখি কথা বলা, বাইরে খেলা এবং পারিবারিক কার্যক্রম শিশুদের যোগাযোগ দক্ষতা, সহানুভূতি ও আত্মবিশ্বাস গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সতর্কতার লক্ষণগুলো
অভিভাবকদের যেসব লক্ষণের দিকে নজর দেওয়া উচিত—
- ডিভাইস ছাড়তে অনীহা
- শখে আগ্রহ কমে যাওয়া
- ঘুমের সমস্যা
- পড়াশোনায় অবনতি
- সামাজিকভাবে দূরে সরে যাওয়া
- হঠাৎ আবেগপ্রবণ আচরণ
- সমাধান ও পরামর্শ
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ক্রিন সম্পূর্ণ বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। বরং পরিবারে খাবারের সময় ও ঘুমানোর আগে স্ক্রিন-মুক্ত সময় নির্ধারণ করা, বাইরে খেলাধুলা উৎসাহিত করা এবং পারিবারিক যোগাযোগ বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি বাবা-মায়ের নিজেদের আচরণও শিশুদের জন্য একটি ইতিবাচক উদাহরণ হওয়া উচিত, কারণ শিশুরা সবচেয়ে বেশি শেখে অনুকরণ থেকে।
