আর কোনো স্বৈরাচার মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না: মির্জা ফখরুল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশে আর কোনো স্বৈরাচার মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, এ দেশের মাটিতে আর কোনো স্বৈরাচার মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় শক্তি এটিই এবং এটিই তাদের অঙ্গীকার।
তিনি বলেন, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে এবং একটি ‘পচে যাওয়া রাষ্ট্রব্যবস্থার’ বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন। এ সময় বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, হাজার হাজার মানুষ গুম ও নিহত হয়েছেন। শিক্ষা ও অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মানুষের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তবে তারা আন্দোলন থেকে সরে আসেননি এবং এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে হাজারো মানুষ গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার দাবিতে রাজপথে নেমে আসেন। আন্দোলন দমনে বহু তরুণ নিহত হন। তিনি অভিযোগ করেন, শিশুদেরও রেহাই দেওয়া হয়নি এবং আন্দোলন দমনে হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়েছিল।
মির্জা ফখরুল বলেন, কোনো স্বৈরাচারই জনগণের শক্তির চেয়ে বড় নয়। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় এবং জাতিসংঘের তদন্ত ও দেশের ট্রাইব্যুনালে হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের বিষয় উঠে আসে। তিনি দাবি করেন, এসব অপরাধের বিচার হয়েছে এবং রায় কার্যকর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রায় ছয় মাস আগে জনগণের ভোটে তারেক জিয়ার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট, হামের প্রাদুর্ভাব এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। তবে এসব বাধা সত্ত্বেও সরকার দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাসের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি এখনো একটি উদার গণতান্ত্রিক, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, উন্নত, সমৃদ্ধ ও আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেন। ৭৮ বছর বয়সেও সেই বিশ্বাস অটুট রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, তার বিশ্বাস ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, আস্থা ২০২৪-এর তরুণ প্রজন্মে, আদর্শ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনে এবং বিশ্বাস বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও বিএনপির রাজনীতিতে। শহীদদের আত্মত্যাগ, জনগণের স্বপ্ন, মেধা ও পরিশ্রমকে ভিত্তি করে আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও মানবিক মর্যাদাসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
