শরীর দ্রুত ডিটক্স করতে আদার রস ও গরম পানি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
সুস্থ থাকতে অনেকেই সকালে গরম পানির সঙ্গে আদার রস পান করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটিকে শরীরের ‘দ্রুত ডিটক্স’ করার উপায় হিসেবেও প্রচার করা হয়। তবে বৈজ্ঞানিকভাবে আদার রস ও গরম পানি শরীর থেকে দ্রুত বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়—এমন শক্ত প্রমাণ নেই। বিভিন্ন ‘ডিটক্স’ পদ্ধতি নিয়ে গবেষণার ফলও এ দাবিকে সমর্থন করার মতো যথেষ্ট নয়।
আদার কী উপকার হতে পারে?
আদা নিয়ে গবেষণায় কিছু সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারের তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বমিভাব ও বমি কমাতে আদা কিছু ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। গর্ভাবস্থাজনিত বমিভাবের ক্ষেত্রেও এর উপকারিতার প্রমাণ রয়েছে।
আদা হজমের অস্বস্তি কমাতেও সহায়ক হতে পারে বলে দীর্ঘদিন ধরে এটি খাদ্য ও প্রচলিত চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে এসব উপকারকে শরীরের ‘ডিটক্স’ হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।
গরম পানি কেন উপকারী মনে হয়?
গরম পানি শরীরে প্রয়োজনীয় তরল সরবরাহ করে এবং অনেকের কাছে এটি আরামদায়ক পানীয় হিসেবে কাজ করে। পর্যাপ্ত পানি পান করা স্বাভাবিক শারীরিক কার্যক্রম বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। তবে গরম পানির সঙ্গে আদা মেশালেই শরীরের জমে থাকা টক্সিন দ্রুত বের হয়ে যাবে—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
কীভাবে নিরাপদে খাবেন?
আদা সাধারণ খাবারের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা যায়। তবে বেশি পরিমাণে আদা খেলে কারও কারও পেটে অস্বস্তি, বুকজ্বালা, ডায়রিয়া কিংবা মুখ ও গলায় জ্বালাপোড়া হতে পারে। নিয়মিত কোনো ওষুধ সেবন করলে আদার ঘন রস বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো, কারণ কিছু ভেষজ উপাদানের সঙ্গে ওষুধের পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
ডিটক্সের জন্য কী গুরুত্বপূর্ণ?
শরীরকে সুস্থ রাখতে কোনো বিশেষ ‘ডিটক্স ড্রিংক’-এর ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই। পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাবার, নিয়মিত ঘুম এবং স্বাভাবিক শারীরিক কার্যক্রম বজায় রাখাই স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কঠোর ডিটক্স ডায়েট বা দীর্ঘ সময় খাবার সীমিত করার মতো পদ্ধতি নিরাপদ নাও হতে পারে।
তাই গরম পানি ও আদা স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে উপভোগ করা যেতে পারে, কিন্তু এটিকে শরীর দ্রুত পরিষ্কার করার নিশ্চিত উপায় বা কোনো রোগের চিকিৎসা হিসেবে দেখা উচিত নয়।
