যেসব ভুলের কারণে মুখে বারবার ব্রন ওঠে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
ব্রন বর্তমান সময়ে তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সের মানুষের জন্যই এক অত্যন্ত সাধারণ কিন্তু বিরক্তিকর সমস্যা। মূলত ত্বকের অতিরিক্ত তেল (সিবাম), মৃত কোষ এবং ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণে লোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্রনের সৃষ্টি হয়। ভুল জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং অনিয়মিত ত্বকের যত্ন এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। তবে সঠিক অভ্যাস ও সচেতনতার মাধ্যমে সহজেই ব্রন থেকে ত্বককে মুক্ত রাখা সম্ভব।
ব্রন থেকে বাঁচতে কী কী করণীয়
১. সঠিক নিয়মে মুখ পরিষ্কার রাখা
দিনে দুইবার মুখ ধোয়া: প্রতিদিন অন্তত দুইবার (সকালে এবং রাতে ঘুমানোর আগে) কোনো মাইল্ড বা স্যালিসিলিক এসিডযুক্ত ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে হবে।
অতিরিক্ত মুখ ধোয়া এড়িয়ে চলা: ঘনঘন ফেসওয়াশ ব্যবহার করলে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট হয়ে তেল নিঃসরণ আরও বেড়ে যেতে পারে।
২. খাদ্যাভ্যাস ও পানি পান
পর্যাপ্ত পানি পান: শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে প্রতিদিন অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার পানি পান করা উচিত।
তেল-মসলা ও চিনিযুক্ত খাবার পরিহার: অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার, মিষ্টি, প্রসেসড ফুড এবং সফট ড্রিংকস ব্রনের প্রভাব বাড়িয়ে দেয়। খাদ্যতালিকায় সবুজ শাকসবজি, ফলমূল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টযুক্ত খাবার বেশি রাখা প্রয়োজন।
৩. হাত স্পর্শ করা ও ব্রন খোঁটা বন্ধ করা
মুখে বারবার হাত দেওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে, কারণ হাতের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া মুখে ছড়িয়ে পড়ে।
কোনো অবস্থাতেই ব্রন টিপে বা গালিয়ে ফেলা যাবে না। এতে ত্বকে স্থায়ী দাগ পড়ে এবং ক্ষতের সৃষ্টি হয়।
৪. ত্বকের উপযোগী প্রসাধন ব্যবহার
নন-কমেডোজেনিক পণ্য: রূপচর্চা বা মেকআপের পণ্য কেনার সময় তা ‘নন-কমেডোজেনিক’ ও ‘অয়েল-ফ্রি’ (Oil-Free) কি না তা দেখে নিন।
ঘুমানোর আগে মেকআপ পরিষ্কার: মেকআপ নিয়ে কখনোই ঘুমানো যাবে না। ঘুমানোর আগেই ডাবল ক্লিনজিংয়ের মাধ্যমে ত্বক পুরোপুরি পরিষ্কার করতে হবে।
৫. ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের পরিচ্ছন্নতা
বালিশের কভার, তোয়ালে ও রুমাল নিয়মিত ধুয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে।
ব্যবহারের তোয়ালে দিয়ে মুখ ঘষে না মুছে তোয়ালে দিয়ে আলতো করে চেপে পানি শুকাতে হবে।
৬. পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
মানসিক চাপের কারণে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা ব্রন বাড়ায়। তাই প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করা এবং দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা জরুরি।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
ঘরোয়া যত্ন নেওয়ার পরও যদি ব্রনের সমস্যা চরম আকার ধারণ করে বা মুখে ব্যথাযুক্ত বড় ব্রন দেখা দেয়, তবে বিলম্ব না করে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের (ডার্মাটোলজিস্ট) পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ব্রন মুক্ত ত্বক পাওয়ার মূল চাবিকাঠি হলো ধৈর্য ও সঠিক যত্ন। রাতারাতি অলৌকিক কোনো পরিবর্তন আশা না করে নিয়মিত ত্বকের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সুস্থ জীবনধারা মেনে চললে দীর্ঘমেয়াদে ব্রন মুক্ত ও উজ্জ্বল ত্বক বজায় রাখা সম্ভব।
