তরুণদের ২০ লাখ টাকা অর্থায়ন, আবেদন করবেন যেভাবে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে নতুন অর্থায়ন কর্মসূচি চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘উদ্যোগ’ নামের এ কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত তরুণ উদ্যোক্তারা কোনো জামানত ছাড়াই সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন পাবেন।
এই অর্থের অর্ধেক ব্যাংকঋণ এবং বাকি অর্ধেক অনুদান হিসেবে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থায়নের ক্ষেত্রে একজন উদ্যোক্তা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অনুদান পেতে পারেন।
৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তা খোঁজা হবে
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও উপজেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা সম্ভাবনাময় তরুণদের চিহ্নিত করে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে এ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন ব্যবসা ও কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট গত ১৩ সেপ্টেম্বর ‘উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি-উদ্যোগ’-এর বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশ করে। পরে তা দেশের সব তফশিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়।
কর্মসূচির আওতায় ৫ হাজার সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাকে খুঁজে বের করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর)। প্রথম পর্যায়ে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। দেশের অন্যান্য জেলার অন্তর্ভুক্ত উপজেলার উদ্যোক্তারা ১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
আবেদন ফরম পাবেন যেখানে
বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, এসএমই পোর্টাল এবং দেশের সব তফশিলি ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ করা যাবে। নির্ধারিত ফরমে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে আবেদন জমা দিতে হবে।
আবেদন করতে হবে সংশ্লিষ্ট উপজেলায় অবস্থিত যেকোনো তফশিলি ব্যাংকের শাখায়। যে ব্যাংকে আবেদন করা হবে, সেখানে আগে থেকে ব্যাংক হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক নয়।
আবেদনকারীর স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার প্রমাণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কমিশনার বা কাউন্সিলরের দেওয়া নাগরিক সনদ বা প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে। আবেদনের সঙ্গে আরও দিতে হবে জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদের কপি, সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের কপি, দক্ষতা উন্নয়ন বা উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সনদ থাকলে তার কপি এবং ওয়ার্ড কমিশনার বা কাউন্সিলরের দেওয়া নাগরিক সনদ।
ব্যাংকের মাধ্যমে হবে উদ্যোক্তা বাছাই
উদ্যোক্তা অনুসন্ধান ও আবেদন গ্রহণের দায়িত্ব থাকবে তফশিলি ব্যাংকের শাখাগুলোর ওপর। প্রতিটি উপজেলায় থাকা তফশিলি ব্যাংকের শাখাগুলোর মধ্য থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি লিড ব্যাংক নির্ধারণ করবে।
সংশ্লিষ্ট উপজেলার আবেদনগুলো উপজেলা লিড ব্যাংকের মাধ্যমে এবং জেলার আবেদনগুলো জেলা লিড ব্যাংকের মাধ্যমে সমন্বয় করা হবে।
তবে নির্বাচিত হওয়া মানেই ঋণ পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। চূড়ান্তভাবে মনোনীত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নিজস্ব ঋণনীতি ও প্রচলিত বিধিবিধান অনুসরণ করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ঋণ অনুমোদনের ব্যবস্থা করবে। কোনো উদ্যোক্তার ঋণ আবেদন বাতিল হলে এর কারণ লিখিতভাবে সংরক্ষণ করে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে।
ব্যবসার প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থায়ন
আবেদনকারীর ব্যবসার ধরন, সম্ভাব্যতা এবং প্রয়োজনীয় অর্থের বিষয়গুলো মূল্যায়ন করেই অর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তার প্রকৃত ব্যবসায়িক চাহিদা ও প্রস্তাবিত ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া হবে।
একজন নির্বাচিত উদ্যোক্তার ব্যবসার জন্য সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সমন্বিত অর্থায়নের সুযোগ থাকলেও সবাই সর্বোচ্চ এই পরিমাণ পাবেন না।
নীতিমালায় উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, কোনো উদ্যোক্তার ব্যবসায় ১২ লাখ টাকা প্রয়োজন হলে তিনি সর্বোচ্চ ৬ লাখ টাকা ঋণ ও ৬ লাখ টাকা অনুদান পেতে পারেন। উদ্যোক্তার নিজস্ব বিনিয়োগ বা অন্য কোনো বৈধ উৎস থেকে পাওয়া অর্থ থাকলেও তা সামগ্রিক অর্থায়ন পরিকল্পনায় বিবেচনা করা হবে।
অর্থের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ
‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে শুধু অর্থায়ন নয়, ব্যবসা পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সহায়তাও দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রত্যেক আবেদনকারীকে আর্থিক সাক্ষরতা কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
নির্বাচিত উদ্যোক্তারা উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ মেন্টরের পরামর্শ, ট্রেড লাইসেন্স ও টিআইএনসহ ব্যবসা নিবন্ধনে সহায়তা, বিজনেস প্ল্যান তৈরির সহযোগিতা এবং বাজার সংযোগের সুযোগ পাবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কর্মসূচিটির মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ে থাকা সম্ভাবনাময় তরুণদের ব্যবসায়িক উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
তদবির করলে বাতিল হবে প্রার্থিতা
কর্মসূচির সুবিধা পেতে কোনো পর্যায়ে তদবির করা যাবে না। তদবিরের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর প্রার্থিতা বাতিল করা হবে।
অন্যদিকে, ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকের পরিচয় যাচাই, সিআইবি এবং লেনদেন তদারকির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
