তিনবার ‘কবুল’ বলা ছাড়াও যেসব শব্দে বিয়ে সম্পন্ন হয়!
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জীবনের পূর্ণতা আসে ভালোবাসা, দায়িত্ব ও পারিবারিক বন্ধনের মাধ্যমে। আর সেই বন্ধনের অন্যতম সুন্দর মাধ্যম হলো বিয়ে। ইসলাম বিয়েকে শুধু সামাজিক প্রথা নয়, বরং পবিত্রতা ও কল্যাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে তুলে ধরেছে।
নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘হে যুবসমাজ, তোমাদের মধ্যে যার বিয়ের সামর্থ্য আছে, তার বিয়ে করা উচিত। কেননা বিয়ে চোখকে নিচু রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা রাখে। কেননা রোজা যৌবনের খায়েশ কমিয়ে দেয়।’ (বোখারি : ৫০৬৫, মুসলিম : ১৪০০)
আরো পড়ুন: দাড়ি রাখার ফজিলত ও শরয়ী নির্দেশনা
এই হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, জীবনের একটি সুন্দর অধ্যায়ের নাম বিয়ে। এই পবিত্র সম্পর্ককে সহজ ও কল্যাণময় করার জন্য ইসলাম দিয়েছে সুস্পষ্ট নির্দেশনা। বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিন বা মাসের অপেক্ষা নয়, বরং সামর্থ্য ও প্রস্তুতি থাকলে সময়মতো বিয়ে করাই উত্তম—এটাই হাদিসের শিক্ষা।
ফিকহে হানাফির দৃষ্টিতে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার জন্য ‘ইজাব’ (প্রস্তাব) ও ‘কবুল’ (গ্রহণ) আবশ্যক। তবে ‘কবুল’ শব্দটি ছাড়াও এমন কিছু শব্দ ও বাক্য আছে যেগুলোর মাধ্যমে এই গ্রহণযোগ্যতা প্রকাশ পায় এবং বিয়ে বিশুদ্ধ হয়ে যায়।
বিয়ে সম্পাদনের মৌলিক শর্তসমূহ
১. ইজাব: পক্ষবিশেষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রস্তাব। ২. কবুল: অপর পক্ষের সম্মতিসূচক জবাব। ৩. স্পষ্ট বাক্য: এমন শব্দ ব্যবহার করতে হবে যার মাধ্যমে নিকাহ বোঝা যায়। ৪. সাক্ষী: দুজন পুরুষ অথবা এক পুরুষ ও দুই নারী সাক্ষীর উপস্থিতি। (দুররুল মুখতার:৩/৯, ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/২৬৮) |
আরো পড়ুন: মসজিদুল হারামে বিতর নামাজ পড়ার নিয়ম ও করণীয়
‘কবুল’ না বলেও যেসব শব্দে বিয়ে সম্পন্ন হয়
- ১.ক্ববিলতু (আমি গ্রহণ করলাম): ইজাবের জবাবে যদি বর বা কনে বলে, ক্ববিলতু, তাহলে এটি পূর্ণ কবুল হিসেবে গণ্য হবে।
- ২. রদ্বিতু (আমি রাজি হলাম): এই শব্দটি সরাসরি কবুল না হলেও ইজাবের পর ব্যবহার হলে তা কবুল ধরা হবে।
- ৩.তাজাওয়াজতুহা (আমি তাকে বিবাহ করলাম): বর নিজেই যদি বলে, ‘আমি অমুককে বিবাহ করলাম,’ তাহলে এটি বিবাহের স্পষ্ট স্বীকৃতি।
- ৪. আনকাহতু নাফসি ইয়্যাহু (আমি নিজেকে তার সাথে বিবাহ করলাম): এই শব্দচয়নেও কবুলের অর্থ পাওয়া যায়।
- ৫. আজাযতুহু (আমি একে অনুমোদন করলাম): প্রতিনিধির মাধ্যমে করা ইজাব যদি মূল ব্যক্তি অনুমোদন করে, তাহলেও নিকাহ সহীহ। (ফতওয়ায়ে হিন্দিয়া, রদ্দুল মহতার)
মোটকথা, ইসলামি শরিয়তে বিয়ে একটি পবিত্র চুক্তি, যেখানে ইজাব ও কবুলের মাধ্যমে দুটি জীবনের বন্ধন প্রতিষ্ঠিত হয়। ফকিহগণ বিয়ের আকদে ব্যবহৃত শব্দের অর্থ ও উদ্দেশ্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। হানাফি মত অনুযায়ী, যে শব্দ দ্বারা বিয়ের প্রস্তাব ও গ্রহণ করা হবে, তা অবশ্যই বর্তমান কালীন এবং স্থায়ী মালিকানা ও সম্পর্কের অর্থ বহনকারী হতে হবে।
