কেন জুম্মার দিনকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন বলা হয়?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ধর্মে জুম্মার দিনটি সপ্তাহের সেরা ও সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ দিন। জুম্মা বা শুক্রবারকে বলা হয় 'সাপ্তাহিক ঈদের দিন'। অন্যান্য দিনের তুলনায় এই দিনের মর্যাদা আল্লাহ তাআলার কাছে ভিন্ন এক বিশেষত্বের দাবি রাখে। জুম্মার দিনে জামায়াতের সঙ্গে যে বিশেষ সালাত আদায় করা হয়, তা কেবল এক ওয়াক্তের শারীরিক ইবাদত নয়; বরং মুসলিমদের ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব এবং আত্মশুদ্ধির এক মহাসম্মিলন।
জুম্মার নামাজ প্রতিটি সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ মুসলমানের জন্য ফরজ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা জুম্মার সালাতের তাগিদ দিয়ে স্বতন্ত্র একটি সূরা নাজিল করেছেন। সূরা আল-জুমুআহ-এর ৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:
"হে মুমিনগণ! জুম্মার দিনে যখন সালাতের জন্য আহ্বান করা হয় (আজান দেওয়া হয়), তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের পানে দ্রুত ধাবিত হও এবং বেচা-কেনা বন্ধ করো। এটিই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে।" — (সূরা আল-জুমুআহ: ৯)
আরো পড়ুন: ইতিহাসের পাতায় আজকের দিন
এই আয়াত থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, আজানের পর জাগতিক সমস্ত কাজ স্থগিত রেখে জুম্মার সালাতের প্রস্তুতি নেওয়া ওয়াজিব।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুম্মার দিন ও সালাতের অশেষ বরকত ও সওয়াবের কথা একাধিক হাদিসে বর্ণনা করেছেন:
গুনাহ মাফের সুসংবাদ: রাসূল (সা.) বলেছেন, "এক জুম্মা থেকে আরেক জুম্মা এবং এক রমজান থেকে আরেক রমজান—এর মধ্যবর্তী সময়ে কৃত গুনাহসমূহের কাফফারা হয়ে যায়, যদি কবিরা (কবিরা গুনাহ) থেকে বেঁচে থাকা যায়।" (সহিহ মুসলিম)
সপ্তাহের সেরা দিন: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেন, "সূর্য উদিত হওয়া দিনগুলোর মধ্যে জুম্মার দিনটি সর্বোত্তম। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনে তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছিল।" (সহিহ মুসলিম)
দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত: জুম্মার দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যখন বান্দা ভালো কোনো দোয়া করলে আল্লাহ তা ফিরিয়ে দেন না। অধিকাংশ আলেমের মতে, আসরের সালাতের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এই বিশেষ সময়।
জুম্মার নামাজের অবহেলায় কঠোর সতর্কতা
বিনা ওজরে বা অহেতুক জুম্মার নামাজ ত্যাগ করা অত্যন্ত মারাত্মক অপরাধ। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি পরপর তিনটি জুম্মা কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া বর্জন করবে, আল্লাহ তাআলা তার অন্তরে মোহর মেরে দেন (সহিহ ইবনে মাজাহ)। ফলে তার হৃদয় হেদায়েতের আলো থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়ে।
