রাশেদ খাঁনের সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় ডিআরইউর নিন্দা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনের প্রকাশ্যে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সাংবাদিকদের সংগঠনটি।
রোববার (১ নভেম্বর) ডিআরইউর কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এ নিন্দা জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলা শুধু একটি পত্রিকার প্রতি অবজ্ঞা নয়, বরং মুক্ত সাংবাদিকতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি চরম অবমাননা। কোনো সংবাদ বা প্রতিবেদনে ভুল থাকলে কিংবা কোনো বক্তব্যে আপত্তি থাকলে প্রতিবাদ জানানো ও আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু প্রকাশ্যে সংবাদপত্র ছিঁড়ে ক্ষোভ প্রকাশ বা প্রতিবাদ করা দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ হতে পারে না। মতের অমিলের জবাব দিতে হবে যুক্তি ও তথ্য দিয়ে, সংবাদপত্র ছিঁড়ে নয়।
ডিআরইউ নেতারা আরও বলেন, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। সেখানে প্রতিফলিত কোনো বিষয় অপছন্দ হলেই দর্পণ ভেঙে ফেলার মানসিকতা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থি। সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করার অধিকার সবার থাকলেও সেই সমালোচনার নামে সংবাদপত্রের প্রতি অবমাননাকর আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ সংকুচিত করার আশঙ্কা তৈরি করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল, সংযত ও গণতান্ত্রিক আচরণ প্রত্যাশিত। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। রাজনৈতিক পদ বা ক্ষমতার অবস্থান কাউকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদার প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের অধিকার দেয় না। বরং দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের আচরণে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সহনশীলতার প্রতিফলন থাকা জরুরি।
ডিআরইউ নেতৃবৃন্দ বলেন, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসীসহ বিভিন্ন মতের সাংবাদিক কাজ করেন। তাদের রাজনৈতিক বিশ্বাস বা পেশাগত অবস্থান যা-ই হোক, সাংবাদিক হিসেবে সবার মর্যাদা ও স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। কোনো সংবাদে আপত্তি থাকলে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিবাদ জানানোই গণতান্ত্রিক পদ্ধতি। সংবাদপত্রের প্রতি অবমাননাকর আচরণের মাধ্যমে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে নেতারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
