ইরান যুদ্ধ ঘিরে বিশ্বশক্তির অবস্থান: কে কোন পক্ষে?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৯:২১ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত টানা চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। গত তিন দিনের পাল্টাপাল্টি হামলায় উভয়পক্ষেই বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির সংখ্যা ইরানেই বেশি বলে জানা গেছে। দেশটির রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সেখানে সাড়ে পাঁচশ’রও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ প্রায় চার ডজন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সোমবার পর্যন্ত অভিযানে অংশ নিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চারজন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। আরো কয়েকজন সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন। পাশাপাশি ইসরায়েলের নয়জন নাগরিক নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে দেশটির সরকার।
খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহী, এমন দাবি করেছে ওয়াশিংটন। তবে তেহরান তা নাকচ করে দিয়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী লারিজানি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় যাবে না ইরান। এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তেহরানের ওপর হামলার মাত্রা আরো বাড়ানো হবে। ফলে সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
চলমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই সংঘাত থামানো না গেলে তা বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
যুক্তরাজ্য
যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তারা জড়িত নয় এবং এতে অংশ নেবে না। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেছেন, ইরানের বাছবিচারহীন হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত ব্রিটিশ সেনা ও নাগরিকরা ঝুঁকিতে পড়ছেন।
চীন
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব পক্ষকে সংযত থাকার এবং অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
আরো পড়ুন : হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ গেলেই আগুন, হুঁশিয়ারি আইআরজিসির
রাশিয়া
চীনের মতো রাশিয়াও ইরানের ওপর হামলার কঠোর সমালোচনা করেছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন খামেনির মৃত্যুকে ‘আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতির পরিপন্থী নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছেন। মস্কো সতর্ক করেছে, এ হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ইরানের সীমানা ছাড়িয়ে আরো বিস্তৃত হতে পারে।
জার্মানি
ইরানের পাল্টা হামলা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে জার্মানি। দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক সূত্র জানিয়েছে, আঞ্চলিক দেশগুলোতে ইরানের হামলা বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযানে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। সম্ভাব্য পদক্ষেপের মধ্যে বিমান হামলায় অংশগ্রহণ এবং সামরিক ও আকাশপথে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে।
ফ্রান্স
ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে ফ্রান্স। সরকারের মুখপাত্র মুদ বোজো বলেছেন, খামেনি ছিলেন দমনমূলক একনায়ক, যিনি নারী, যুব ও সংখ্যালঘুদের অধিকার লঙ্ঘন করেছেন। তবে এর আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সতর্ক করে বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে তা বৈশ্বিক শান্তির জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
অন্যদের প্রতিক্রিয়া
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি–বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বর্তমান পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেছেন এবং কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি উত্তেজনা কমাতে মিত্র ও আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ বলেছেন, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে তারা সমর্থন করেন।
এদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফলকার টুর্ক সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সবাইকে উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানান।
সূত্র: বিসিবি বাংলা
