শর্ত পূরণ হলেই ভারতের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক : নাহিদ ইসলাম
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন ভারত সরকারের মদত ছাড়া সম্ভব ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ না দেওয়া, শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় না দেওয়া, বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের প্রতি ভারত সরকারের শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার মতো বিষয়ে নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করে নতুন সম্পর্ক স্থাপন করা উচিত।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরতে দলটির পলিসি ও রিসার্চবিষয়ক উপকমিটি এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
আরও পড়ুন: মা মারা যাচ্ছে, চিকিৎসা করাতে পারছি না
নাহিদ ইসলাম বলেন, চলতি বছর গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা, সীমান্তে পুশইন বন্ধ করা এবং সীমান্ত হত্যা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার মতো বিষয়গুলো নিশ্চিত হওয়ার ভিত্তিতেই ভারতের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপন করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, এসব বিষয় সমাধানের আগে শেখ হাসিনা যে দিল্লিতে অবস্থান করছেন, সেখানে আবার তারেক রহমান গেলে এর অর্থ কী দাঁড়াবে- এ প্রশ্ন উঠবে। বাংলাদেশের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিষয়টিকে কীভাবে দেখবে, সেটিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: দুই দেশের বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের, ফখরুলকে শি জিনপিং
নাহিদের ভাষায়, এটি শুধু তারেক রহমানের ব্যক্তিগত বিষয় নয়; বরং বাংলাদেশের জন্য একটি অবমাননাকর পরিস্থিতি তৈরি করবে। এর মাধ্যমে এমন বার্তা যেতে পারে যে, বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা কিংবা নিজের সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছে না।
সংবাদ সম্মেলনে ‘সরকারের ১৮০ দিন: পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি থেকে পুরোনো রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন, অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা ও পরিকল্পনাহীনতা’ শিরোনামে একটি লিখিত বক্তব্যও উপস্থাপন করেন নাহিদ ইসলাম।
আরও পড়ুন: বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতার খতিয়ান তুলে ধরল এনসিপি
লিখিত বক্তব্যে অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ও শ্রমিকদের চাকরির ঝুঁকি, বিদ্যুৎ সংকট ও রেকর্ড লোডশেডিং, কৃষকদের হয়রানি এবং সারের সংকটের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
এ ছাড়া অর্থনৈতিক অপশাসন, ব্যাংক দখল ও বাজার সিন্ডিকেট, মেগা প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি ও লুটপাটের আয়োজন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্য নির্ধারণ নীতি বাতিল, হাম মহামারিতে ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা, বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সাংবাদিকদের হয়রানি ও মামলা, গণভোটের গণরায় উপেক্ষা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ, রাজনৈতিক স্বজনপ্রীতি এবং নতুন মোড়কে র্যাবসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের কার্যক্রমের মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়।
