ইসরায়েল ছাড়া আমেরিকার অস্তিত্ব নেই: যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েল ছাড়া আসলে আমেরিকার কোনো অস্তিত্বই থাকত না—এমন বিস্ফোরক ও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। এমনকি তার মতে, নিজেদের অস্তিত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের কাছে ঋণী।
সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাকাবির এই মন্তব্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। এ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
ইসরায়েলে এক অনুষ্ঠানে কথা বলার সময় রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেন, ‘ইহুদি ভিত্তি ছাড়া কোনো আমেরিকা থাকত না। আমেরিকানরা আমাদের অস্তিত্বের জন্য এই ভূমিতে (ইসরায়েল) যা ঘটেছিল তার কাছে ঋণী।’
হাকাবির এই দাবিগুলো সরাসরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধিতা করে। কারণ ট্রাম্প সম্প্রতি ইসরায়েলের টিকে থাকার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব নিজের দাবি করেছেন। ফ্রান্সে বার্ষিক জি-৭ সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় ট্রাম্প ইসরায়েলি নেতৃত্বের প্রকাশ্য সমালোচনা করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া কোনো ইসরায়েল থাকত না। আমি ছাড়া কোনো ইসরায়েল থাকত না কারণ অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট আমি যা করেছি তা করতে রাজি ছিলেন না।’
রাষ্ট্রদূত হাকাবির এই মন্তব্য এমন এক সংবেদনশীল সময়ে এলো যখন ট্রাম্প জেনেভায় শুক্রবারের নির্ধারিত একটি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগে ইরানের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছেন। এই শান্তি আলোচনার মাঝে ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার সিদ্ধান্তকে ‘পাগলামি’ বলে অভিহিত করেছেন।
লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক হামলার সমালোচনা করে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েলের এমন কাণ্ড ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনাকে নস্যাৎ করার ঝুঁকি তৈরি করছে। নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বলেন, ‘কাউকে খোঁজার জন্য প্রতিবার একটি ভবন গুঁড়িয়ে দিতে হবে না।’
এদিকে ২০২৫ সালের এপ্রিলে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিশ্চিত হওয়া হাকাবির আনুগত্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একজন ব্যাপটিস্ট মন্ত্রী এবং আরকানসাসের প্রাক্তন গভর্নর হাকাবি আমেরিকান স্বার্থের চেয়ে ইসরায়েলি স্বার্থকে ক্রমাগত অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণে তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছেন। সম্প্রতি সাংবাদিক টাকার কার্লসনের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারের সময় এই রাষ্ট্রদূত বারবার ডানপন্থী ইসরায়েলি পক্ষীয় বিষয়গুলোর পুনরাবৃত্তি করেছিলেন। তিনি অবরুদ্ধ গাজার পশ্চিম তীর বর্ণনা করতে ফিলিস্তিনি নামের বদলে ‘জুডিয়া এবং সামারিয়া’ শব্দগুলো ব্যবহার করেন এবং ইসরায়েলের দখলদারিকে সরাসরি সমর্থন জানান।
হাকাবি এমনকি ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজের দেশের সশস্ত্র বাহিনীকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে চাপ দেওয়া হলে তিনি দাবি করেন, ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী যতটা মানবিক ছিল, বেসামরিক জীবন রক্ষায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তার চেয়ে অনেক বেশি মানবিক। কিন্তু হাকাবি জোনাথন পোলার্ডের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক বৈঠকের পক্ষেও সাফাই গেয়েছেন। পোলার্ড মূলত ইসরায়েলের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধে দণ্ডিত একজন মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষক।
