তুরস্ক থেকে ইসরায়েলে হামলার পরিকল্পনা ফাঁস!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিন ইস্যু এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক আধিপত্যকে কেন্দ্র করে তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে বর্তমানে অত্যন্ত বৈরী সম্পর্ক বিরাজ করছে। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা ও ফিলিস্তিনিদের ওপর পাশবিক গণহত্যাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কে গভীর ফাটল ধরেছে।
তবে এই ফাটল বা দ্বন্দ্ব এবার সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তীব্র আকারে ঘনীভূত হয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ও দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত দাবি করেছে যে, তারা তুরস্কে অবস্থা করা ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের কিছু সদস্যের একটি নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনীর মতে, হামাসের ওই নেটওয়ার্কটি নাকি ইসরাযেলের ভেতরে হামলা চালানোর পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের কাজে যুক্ত ছিল। অর্থাৎ তুরস্কে থাকা হামাসের কিছু সদস্য স্থানীয় সহযোগীদের মাধ্যমে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘সামরিক অভিযান’ পরিচালনার চেষ্টা করছিল।
রোববার (২১ জুন) এই পরিকল্পনা ধরা পড়ার পরই ইসরায়েলি পক্ষ বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার দাবি করেছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট। শিন বেত বলছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারি ও তদন্তের মাধ্যমে এই নেটওয়ার্কের কার্যক্রম ট্র্যাক করছিল এবং শেষ পর্যন্ত এটি শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
আইডিএফ ও শিন বেতের দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা তুরস্ক থেকে পরিচালিত হামাসের একটি গোষ্ঠীর পাঁচ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এই গোষ্ঠীর সদস্যরা ইসরায়েল এবং পশ্চিম তীরে হামলা চালানোর পরিকল্পনা ও সমন্বয় করছিল। তারা নতুন সদস্য নিয়োগ, হামলার পরিকল্পনা করা এবং অস্ত্র ও অর্থ আনা-নেওয়ার কাজ তদারকি করত।
এতে বলা হয়, এই অভিযোগে পাঁচজনের নামও প্রকাশ করা হয়েছে। তারা হলো সালাম ইয়াইশ, ওয়ালিদ আবু নাসের, মাজেদ জা’বা, মুহাম্মদ মাল্লাহ এবং আয়মান শারাওনা। গত সপ্তাহে গাজা উপত্যকায় হামাসের একটি বিশাল আর্থিক নেটওয়ার্কের প্রধান দুই কমান্ডারকে হত্যা করেছে আইডিএফ। হুসেইন কাদরা ও মোহাম্মদ ফাররা হামাস এবং ফিলিস্তিনি ইসলামী জিহাদের (পিআইজে) সামরিক শাখার সদস্য ছিলেন।
নেটওয়ার্কটির প্রধান কাদরা, ফাররা ও অন্যান্য ব্যক্তির সঙ্গে মিলে তুরস্ক এবং গাজা উপত্যকায় থাকা বার্তাবাহক ও অর্থ বিনিময়কারীদের একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হামাসের সামরিক শাখায় অর্ধ বিলিয়ন এনআইএসেরও বেশি অর্থ স্থানান্তরে সহায়তা করেছিল। হামলার আগে বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি কমাতে সুনির্দিষ্ট অস্ত্রের ব্যবহার ও আকাশপথে নজরদারিসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে আইডিএফ।
এর আগে, গত এপ্রিলের মাঝামঝিতে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সাবেক জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হাকান ফিদান সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘ইরানের পর তুরস্ককে নতুন প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে ইসরায়েল। কারণ শত্রু ছাড়া তারা টিকে থাকতে পারে না।’
বিশ্লেষকেরা বলছেন, হাকান ফিদানের সেই আগাম সতর্কবাণীই বাস্তবে রূপদান করতে নানান ছলচাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছে ইসরায়েল। হতে পারে মুসলিম রাষ্ট্র তুরস্ককে পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু করতে দেশটির অভ্যন্তরে হামাসের তৎপরতার অভিযোগ একটি ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে তেল আবিব। কারণ তুরস্কের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সমৃদ্ধ।
বর্তমানে সামরিক শক্তি ও অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে দৌঁড়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে আঙ্কারা। বিশেষ করে তাদের ‘গাজাপ’ নামের ৯৭০ কেজি ওজনের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অ-পারমাণবিক ভ্যাকুয়াম বা থার্মোবারিক বোমা ও পঞ্চম প্রজন্মের টুইন-ইঞ্জিন স্টেলথ ‘কান’ যুদ্ধবিমান ইসরায়েলের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে। ফলে ইনিয়েবিনিয়ে পশ্চিমা সমর্থন নিয়ে তুরস্কের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে ইসরায়েল এখন নিজেদের সুরক্ষিত করতে চাইছে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
