×

বলিউড

সিনেমার প্রস্তাবে ডেকে হত্যা করা হয়েছিল এ অভিনেত্রীকে

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম

সিনেমার প্রস্তাবে ডেকে হত্যা করা হয়েছিল এ অভিনেত্রীকে

ছবি : সংগৃহীত

বলিউডে নিজের স্বপ্নের ক্যারিয়ার গড়তে মুম্বাইয়ে এসেছিলেন তরুণ অভিনেত্রী মীনাক্ষী থাপা। অভিনয়ের সুযোগের অপেক্ষায় থাকা এই উদীয়মান শিল্পীর জীবন শেষ পর্যন্ত থেমে যায় একটি ভুয়া সিনেমার প্রস্তাবের ফাঁদে পড়ে। ২০১২ সালে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ড আজও বলিউডের অন্যতম আলোচিত অপরাধ হিসেবে স্মরণ করা হয়। খবর এনডিটিভির।

উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনের বাসিন্দা মীনাক্ষী থাপা অভিনয়জগতে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মুম্বাইয়ে পাড়ি জমান। তিনি মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার ‘৪০৪’ ছবিতে অভিনয় করেন এবং পরে পরিচালক মাধুর ভান্ডারকারের ‘হিরোইন’ সিনেমার শুটিংয়েও অংশ নেন। সেখানেই তাঁর পরিচয় হয় দুই জুনিয়র শিল্পী অমিত জয়সওয়াল ও প্রীতি সুরিনের সঙ্গে।

তদন্তে জানা যায়, পরিচয়ের পর মীনাক্ষীর পারিবারিক আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করেন অমিত ও প্রীতি। তারা মনে করেছিলেন, মীনাক্ষীর পরিবার বিত্তশালী। সেই ধারণা থেকেই মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে তাঁকে অপহরণের পরিকল্পনা করা হয়।

অভিনয়ের নতুন সুযোগের প্রলোভন দেখিয়ে মীনাক্ষীকে উত্তর প্রদেশে একটি সিনেমার শুটিংয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য সুযোগ ভেবে তিনি রাজি হন এবং ২০১২ সালের ১৩ মার্চ অভিযুক্ত দুজনের সঙ্গে প্রয়াগরাজের উদ্দেশে রওনা দেন।

এরপর থেকেই পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কয়েক দিন পর, ১৭ মার্চ পরিবারের কাছে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ১৫ লাখ রুপি মুক্তিপণ দাবি করে বার্তা পাঠানো হয়। একই সঙ্গে টাকা না দিলে তাঁকে পর্নোগ্রাফিক চলচ্চিত্রে কাজ করতে বাধ্য করার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ‘এক দিন না এক দিন তোমাদের বিচ্ছেদ হবে’

মীনাক্ষীর পরিবার এত বিপুল অর্থ জোগাড় করতে না পেরে তাঁর ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৬০ হাজার রুপি জমা দেয়। তবে তদন্তে উঠে আসে, মুক্তিপণ না পাওয়ার পর অভিযুক্তরা মীনাক্ষীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে তাঁর দেহ খণ্ডিত করে মাথাবিহীন অংশ একটি সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয়। বিচ্ছিন্ন মাথাটি বাসে করে লখনৌ যাওয়ার পথে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়, যা আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

হত্যার পরও অভিযুক্তরা মুক্তিপণের জন্য যোগাযোগ চালিয়ে যায়। তবে মীনাক্ষীর সিম কার্ড ও ডেবিট কার্ড ব্যবহার করার কারণে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পেয়ে যায় পুলিশ। ফোন রেকর্ড ও ইলেকট্রনিক তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ২০১২ সালের ১৪ এপ্রিল মুম্বাইয়ের বান্দ্রা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অমিত জয়সওয়াল ও প্রীতি সুরিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেপটিক ট্যাংক থেকে মীনাক্ষীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন: হুমকির মুখে বলিউড অভিনেতা আমির খান

দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে ২০১৮ সালের ৯ মে আদালত অমিত জয়সওয়াল ও প্রীতি সুরিনকে হত্যা এবং মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে অপহরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এ ঘটনাকে ‘বিরলতম অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করলেও আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

মীনাক্ষী থাপার মর্মান্তিক পরিণতি বিনোদন জগতে নতুনদের স্বপ্ন, সংগ্রাম এবং প্রতারণার ঝুঁকির এক নির্মম উদাহরণ হিসেবে আজও আলোচিত। তার কাছে যে সিনেমার প্রস্তাবটি ছিল নতুন জীবনের সম্ভাবনা, সেটিই শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে মৃত্যুর ফাঁদ।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

কুয়েতে মার্কিন সামরিক রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করল ইরান

কুয়েতে মার্কিন সামরিক রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করল ইরান

ভারী বৃষ্টিতে ৭ জেলায় ফের বন্যার শঙ্কা

ভারী বৃষ্টিতে ৭ জেলায় ফের বন্যার শঙ্কা

ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই ইসলামী আন্দোলনের মূল লক্ষ্য

গোলাম পরওয়ার ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই ইসলামী আন্দোলনের মূল লক্ষ্য

মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App