দেওয়ানগঞ্জ
আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ
দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:১০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডিগ্রীর চর হেফাজউদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাবে অনিয়মের অভিযোগে পদত্যাগ করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান ববিন। পদত্যাগপত্রে তিনি পদত্যাগের কারণ হিসেবে ‘ব্যক্তিগত অসুস্থতা’ উল্লেখ করেছেন।
গত রোববার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দপ্তরে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ জহুরুল হোসেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ জুলাই বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ জহুরুল হোসেন বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব ও নথিপত্র পর্যালোচনার সময় বেশ কিছু অসংগতি ও আর্থিক অনিয়ম তাঁর নজরে আসে। এ সময় তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপন ও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে আর্থিক হিসাবের সঠিক নথিপত্র ও ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদত্যাগপত্র জমা দেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আসাদুজ্জামান ববিন মূলত ওই বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষক। ২০২২ সালে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক জি. এম. এ. রহিম অবসরে যাওয়ার পর তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি আয়-ব্যয়ের হিসাবের কেবল খসড়া সংরক্ষণ করতেন। এমনকি চলতি বছরের কোনো আয়-ব্যয়ের হিসাবই সংরক্ষণ করা হয়নি এবং বিদ্যালয়ের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবেও কোনো অর্থ জমা দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান ববিনের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাঁর মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি। উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার সজল কুমার ভদ্র জানান, সম্প্রতি ইউএনও মহোদয় বিদ্যালয়টি পরিদর্শনের সময় আয়-ব্যয় সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়ম শনাক্ত করেন। এর পরই রোববার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ জহুরুল হোসেন বলেন, বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আয়-ব্যয় সংক্রান্ত কোনো বৈধ নথিপত্র দেখাতে পারেননি। রোববার তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং বিষয়টি বিধি অনুযায়ী প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের আর্থিক অনিয়মের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
