পদত্যাগ করলেন ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
এক বছর দায়িত্ব পালনের পর ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া স্ভিরিডেনকো পদত্যাগ করেছেন। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির অনুরোধে তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দেশটির পার্লামেন্ট তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে।
সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি। তিনি শুধু বলেন, দেশের রাজনৈতিক কৌশলে পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং সে কারণে নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন। তবে আকস্মিক এ সিদ্ধান্তে পার্লামেন্টের কয়েকজন আইনপ্রণেতা অসন্তোষ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
৪০ বছর বয়সী অর্থনীতিবিদ ইউলিয়া স্ভিরিডেনকো বিদায়ী বক্তব্যে বলেন, চলতি বছরের প্রতিটি দিনই কঠিন সিদ্ধান্ত এবং দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হয়েছে। তাঁর ওপর আস্থা রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের পুরো সময় ফলাফলকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছেন। খবর রয়টার্সের
এক বছর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক মাস আগেই ইউক্রেনের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তাকে ঘিরে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনে দুর্নীতি দমনে যথেষ্ট কার্যকর পদক্ষেপ নিতে না পারার অভিযোগে সমালোচনার মুখেও পড়েন তিনি।
তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক ছিল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভলোদিমির জেলেনস্কির বৈঠককে ঘিরে টানাপোড়েনের পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ বিনিয়োগ চুক্তি সম্পন্ন করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
বিরোধী দল হোলোস পার্টির আইনপ্রণেতা ইয়ারোস্লাভ ঝেলেজনিয়াক বিদায়ী সরকারের সমালোচনা করে বলেন, সরকার প্রতিদিন ফলাফলের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে প্রতিদিন নতুন উপস্থাপনা, সংবাদ সম্মেলন এবং দুর্নীতির মামলায় নতুন সন্দেহভাজনের খবরই সামনে এসেছে।
স্ভিরিডেনকোর পদত্যাগের ফলে দেশটির সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী পুরো মন্ত্রিসভাই বিলুপ্ত হয়েছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস কোম্পানি নাফতোগাজের প্রধান সের্হি কোরেতস্কিকে অন্যতম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ ছাড়া বর্তমান জ্বালানি মন্ত্রী এবং স্ভিরিডেনকোর পূর্বসূরি ডেনিস শমিহাল ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরোভের নামও সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।
চার বছরের বেশি সময় ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে, যখন ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ও লজিস্টিকস লক্ষ্য করে দূরপাল্লার হামলা জোরদার করছে, ঠিক সেই সময়ই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই বড় পরিবর্তন এলো।
ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো যুদ্ধকালীন অর্থনীতি সচল রাখা এবং রাশিয়ার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠনের কাজ তদারকি করা।
পদত্যাগের আগে ইউলিয়া স্ভিরিডেনকো সতর্ক করে বলেন, নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে আসন্ন শীত মৌসুমের প্রস্তুতি নেওয়া। তাঁর আশঙ্কা, রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিড ও গ্যাস অবকাঠামোর ওপর হামলা আরও জোরদার করতে পারে।
