শিক্ষামন্ত্রী
প্রশ্ন আমরা করিনি, বিগত সরকারের সময় করা হয়েছে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:০৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
চলমান এইচএসসি পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রে ভুল থাকা প্রশ্নপত্র বর্তমান সরকার প্রণয়ন করেনি বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্রটি বিগত সরকারের সময়ে দায়িত্বে থাকা মডারেটরদের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, এইচএসসি পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ত্রুটি ছিল। বর্তমান সরকার মাত্র চার মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। প্রশ্ন প্রণয়নের কাজ আগের মডারেটররাই সম্পন্ন করেছিলেন।
স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র মডারেশনের প্রক্রিয়া প্রায় দুই বছর আগে শুরু হয়। তাই বর্তমান সরকার কোনো নতুন প্রশ্নপত্র তৈরি করেনি। তবে ভুল শনাক্ত হওয়ার পরপরই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পদার্থবিজ্ঞানের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর (ফুল ক্রেডিট) দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে রাতেও চলছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন
শিক্ষার্থীদের যেন কোনো ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।
এর আগে সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, টানা বৃষ্টিতে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা এক বা দুই দিন পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করলেও তা করা হয়নি। তিনি জানতে চান, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষা কয়েক দিনের জন্য স্থগিত রাখতে কী ধরনের সমস্যা ছিল।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে প্রায় দুই হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বন্যা পরিস্থিতির কারণে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং পরে পুরো চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: সংসদে শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা আয়োজনের আগে সরকার সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। এ সময় ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার, আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছিল।
শিক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকবে এমন তথ্য পাওয়ার পর বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে পরীক্ষার দিন সকালে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের মাঠ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষাকেন্দ্র স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।
