×

জাতীয়

ভিজিট ভিসায় মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিক যাচ্ছে ‘বডি কন্ট্রাকে’!

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২১, ০৫:৪৩ পিএম

স্মার্টকার্ড বন্ধে মন্ত্রণালয়ে বিএমইটি’র চিঠি

ভিসায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মী ভিসা বন্ধ থাকলেও ভিজিট ভিসায় পাড়ি জমিয়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক। এরইমধ্যে ভিজিট ভিসায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর পাড়ি জমিয়েছেন প্রায় অর্ধলাখ শ্রমিক! এলিট ফোর্স র‌্যাবের অভিযানে এই চক্রের হোতাসহ আটজন গ্রেপ্তারের পর মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ৭ বছরে প্রায় ৫’শ জনকে এই কায়দায় দুবাই পাচারের হোতার জবানবন্দিতে মিলেছে চক্রের খোঁজ। ‘বডি কন্ট্রাকে’ (ঢাকা থেকে দুবাই বিমানবন্দর যাওয়া) বিমানবন্দর পাড়ি দিয়ে তাদের অনেকে পড়েছেন অনিশ্চয়তায়। অবশ্য চারদিনে ১৩শ’ জন বিএমইটি’র অনুমোদন বা স্মার্টকার্ড নিয়ে গেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে এই প্রক্রিয়ায় আবেদন বেড়ে যাওয়ায় স্মার্টকার্ড বন্ধ করতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে বিএমইটি।

এ প্রসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন ভোরের কাগজকে বলেছেন, ভিজিট ভিসায় স্মার্টকার্ড পাওয়ার কথা নয়। এভাবে শ্রমিক যাওয়ারও কথা নয়। কিভাবে কী হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) মহাপরিচালক মো. শহীদুল আলম বলেছেন, ভিজিট ভিসায় যারা বিএমইটি’র অনুমোদন নিয়ে যাচ্ছে তাদের ক্ষেত্রে রিক্রুটিং এজেন্সির একটা দায়বদ্ধতা থাকছে। দুবাই গিয়ে চাকরি না পেলে টাকা ফেরত দিতে তারা চুক্তিবদ্ধ হচ্ছে। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের অনুমোদন সাপেক্ষে চাকরি পাওয়ার কথা বিবেচনা করে তাদেরকে স্মার্টকার্ড দেয়া হলেও অন্যদিক বিবেচনা ভিজিট ভিসায় স্মার্টকার্ড বন্ধ করতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। কয়েকদিন স্মার্ট কার্ড দিয়ে ১৩শ’ লোক পাঠানোর পর তারা সেখানে চাকরি পেয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ভিজিট ভিসায় শ্রমিক যাওয়ার আবেদন বেড়ে যাওয়ায় তা বন্ধ রাখা হয়েছে। এখনো ১৫ হাজার আবেদন জমা আছে। এগুলো ছাড়ের জন্য চাপ রয়েছে। ভিজিট ভিসায় গিয়ে ৩ হাজার ডলারে তা কনভার্ট করে অনেকে চাকরি পাচ্ছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, বিএমইটি’র অনুমোদন কয়েক হাজার মানুষ ভিজিট ভিসায় সংযুক্ত আরব আমিরাত যাচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বৈধভাবে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এতে অন্যভাবে যাওয়ার প্রবণতা কমবে বলে তিনি আশা করেন।

পুলিশের ডিআইজি (ইমিগ্রেশন) মনিরুল ইসলাম বলেছেন, আমরা বিএমইটি কার্ড দেখে ছাড়পত্র দেই। এছাড়া যারা পূর্বে দুবাইয়ে কাজ করেছেন তাদের ছাড়া হয়ে থাকে। ভিজিট ভিসার যাত্রীদের ব্যাপারে খোঁজখবর করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হয়। মানবপাচার রোধে তারা সবসময় সজাগ বলেও জানান তিনি।

জানা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মী ভিসা বন্ধ ছিল। বৈশ্বিক মহামারি করোনার সময় তা চালু না হলেও গত আড়াই মাস আগে তা ফের চালু হয়েছে। গত ১ নভেম্বর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ভ্রমপুত্র, আল হারমাইন, আল মোবারক, ইসতেমা, সামস ও নেপ ইয়ার রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে ভিজিট ভিসায় ১৩শ’ শ্রমিক বিএমইটি’র স্মার্টকার্ড নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত গেছেন। এছাড়া প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক ‘বডি কন্ট্রাকে’ গেছেন। যার মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার জনের বাড়ি চট্রগাম জেলায়। এজন্য দুই বিমানবন্দরেই তৎপর তাদের নির্ধারিত দালাল। অভিযোগ রয়েছে, বিমানবন্দরে দায়িত্বরত ১৯টি সংস্থার কতিপয় কর্মকর্তাদের যোগসাজশে রিক্রটিং এজেন্সি ও এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ মিলে এসব লোক পাঠিয়েছেন। তাদের অনেকে সেখানে গিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

৭ বছরে একজন পাচার করেছেন ৫শ’ জন : র‌্যাব জানায়, একাধিক ভুক্তভোগী র‌্যাব-৩ এ অভিযোগ করেন জানায় একটি চক্র তাদেরকে ভ্রমণ ভিসায় মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে পাঠাতে গিয়ে প্রতারণা করেছে। অভিযোগকারীরা বিএমইটি ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স কার্ড ছাড়া অবৈধভাবে বিদেশ যেতে অস্বীকৃতি জানান এবং টাকা ফেরত চান। তখন উক্ত মানবপাচারকারী চক্র নকল বিএমইটি ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স কার্ড তৈরি করে লোকজনকে সরবরাহ করে। নকল কার্ড নিয়ে ভিক্টিমরা বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন করতে গেলে বিমানবন্দরে কর্তব্যরত জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর সদস্যরা তাদের ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স কার্ড নকল হিসেবে সনাক্ত করেন এবং বিদেশ যাত্রা স্থগিত করেন। তখন ভুক্তভোগীরা তাদের সংশ্লিষ্ট দালালদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা কোন সন্তোষজনক জবাব না দিয়ে সবার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ৬ নভেম্বর র‌্যাব-৩ ঢাকার তুরাগ, উত্তরা, রমনা, পল্টন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের মো. নাইম খান ওরফে লোটাস (৩১), মো. নুরে আলম শাহরিয়ার (৩২), মো. রিমন সরকার (২৫), মো. গোলাম মোস্তফা সুমন (৪০), মো. বদরুল ইসলাম (৩৭), মো. খোরশেদ আলম (২৮), মো. সোহেল (২৭) ও মো. হাবিবকে (৩৯) গ্রেপ্তার করে। ধৃতরা জানান, এই চক্রের মূল হোতা মো. নাইম খান ওরফে লোটাস (৩১)। তিনি দুবাই প্রবাসী, চলতি বছরের মে মাসে সে দেশে ফেরত আসেন। তিনি এইচএসসি পাশ এবং ২০১২ সালে ওয়ার্কপারমিট নিয়ে দুবাই যান। দুবাই শ্রম বাজারে বাংলাদেশী শ্রমিকদের চাহিদা থাকায় দুবাইয়ের কিছু প্রতিষ্ঠান ভ্রমণ ভিসায় দুবাই অবস্থানকারীদের ওয়ার্কপারমিট দিয়ে কাজের বৈধতা দেয়। ওই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নাইম মানবপাচারে জড়িয়ে দুবাই এবং বাংলাদেশে তার পরিচিতদের মাধ্যমে উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে লোকজনকে দুবাই যেতে উদ্বুদ্ধ করেন। দুই থেকে তিন লাখ টাকার তিনি তাদের ভ্রমণ ভিসায় দুবাই নিয়ে যান। ভ্রমণ ভিসায় যাওয়ার পর কেউ কেউ কাজের সুযোগ পেলেও অধিকাংশই কাজ না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ৭ বছর ধরে তিনি পাঁচ শতাধিক লোককে দুবাই পাচার করেছেন। দুবাইয়ে ফারুক নামে তার একজন সহকারী রয়েছে এবং গ্রেপ্তার হওয়া মো. নুরে আলম শাহরিয়ার (৩২) বাংলাদেশে তার মূল সহযোগী। বিএমইটি কার্ড জালিয়াত চক্রের মূল হোতা হাবিব এবং খোরশেদ।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ করছেন বিদেশি প্রকৌশলীরা

এফএসআরইউতে কারিগরি ত্রুটি গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ করছেন বিদেশি প্রকৌশলীরা

‘আর্টিকেল ৫১’ কি সাহাবুদ্দিনের রক্ষাকবচ?

‘আর্টিকেল ৫১’ কি সাহাবুদ্দিনের রক্ষাকবচ?

অর্থ আত্মসাতের সুযোগ নেই, প্রাপ্য সবার কাছে পৌঁছাবে

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অর্থ আত্মসাতের সুযোগ নেই, প্রাপ্য সবার কাছে পৌঁছাবে

পাকিস্তানে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ১২ সেনা সদস্যসহ নিহত ১৫

পাকিস্তানে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ১২ সেনা সদস্যসহ নিহত ১৫

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App