অবশেষে ‘মুরব্বি চোর সিন্ডিকেট’ ধরা
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২২, ০১:৪০ পিএম
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে চোর চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। ছবি : ভোরের কাগজ
অর্ধশতাব্দী ধরে বাসাবাড়িতে চুরি করে আসছিল মুরব্বি চোর সিন্ডিকেট। এই চক্রের সদস্যরা ৭-৮ বছর বয়স থেকেই চুরিতে সম্পৃক্ত হয়। শুরুর দিকে তারা বাসা-বাড়ির ছাদে রোদে দেয়া জামাকাপড়, জুতা, টুকরা রড, সবজি চুরি করলেও গত ২০-২২ বছর ধরে বাসা বাড়িতে তালা ভেঙে চুরি শুরু করে। কৌশল হিসেবে তারা আগেই রেকি করতো, কোন বাসায় সিসি ক্যামেরা নেই ও নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ছাড়া তারা কিছু নিতো না। বয়স বেশি হওয়ায় কেউ তাদেরকে তেমন সন্দেহ করতো না।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এই চোর চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, চক্রের মূলহেতা মো. জব্বার মোল্লাহ (৬৭), আজিমুদ্দিন (৫২), মো. জামাল (৪৪), মো. আবুল (৫০), মো. আনোয়ার হোসেন (৪৪) ও মো. আব্দুল ওহাব (৪৫)।
ডিবি গুলশান বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট জেনাল টিমের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (এডিসি) এস এম রেজাউল হক বলেন, গত ১৭ ই আগস্ট খিলক্ষেত থানাধীন নিকুঞ্জ-২ এর ১৫ নং রোডে এক ডাক্তার দম্পতির বাসায় দিনের বেলায় দুর্ধর্ষ চুরি হয়। বাসায় দারোয়ান ও সিসিটিভি না থাকার সুযোগে চোর চক্রের সদস্যরা বাসায় নির্বিঘ্নে প্রবেশ করে তৃতীয় তলার দরজা ভেঙে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে এবং আলমারি লক ভেঙে তার ভিতর থেকে ৪২ ভরি স্বর্ণ ও ৪০০০ ইউ এস ডলার চুরি করে। ঘটনার সংবাদ পেয়ে তদন্তে নামে গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিম।
বাদীর সাথে আলোচনা, মামলার এজাহার পর্যালোচনা এবং ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকার সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে তথ্য সংগ্রহ করে গোয়েন্দা সদস্যরা। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এবং সিসি ক্যামেরা ফুটেজ বিশ্লেষণে আসামিদের শনাক্তকরনে সক্ষম হয় ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিমের সদস্যরা। আসামিদের অবস্থান সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শনিবার পল্লবীতে চুরি করার সময় হাতেনাতে চোর-চক্রের চার সদস্য জব্বার মোল্লাহ, আজিমুদ্দিন, মো. জামাল ও মো. আবুলকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে দরজা এবং আলমারি ভাঙার বিভিন্ন উপকরণ পাওয়া যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, সাত আট বছর বয়স থেকে তারা ঢাকার কারওয়ান বাজার, মিরপুরসহ, সংসদ ভবনের আশেপাশের এলাকায় টোকাইগিরি করত। এ সময় তারাবাসা-বাড়ির ছাদে রোদে দেয়া জামাকাপড়, জুতা, টুকরা রড, সবজি চুরি করে বিক্রি করতো। চোরাই মাল বিক্রি করতে গিয়ে একে অন্যের সাথে পরিচিত হয় এবং তারা একত্রে চুরি করা শুরু করে। বিগত ২০-২২ বছর ধরে তারা দরজা ভেঙে বাসায় ঢুকে চুরি করা শুরু করেছে।
জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরো জানায়, ঘটনার আগের দিন তারা কথা বলে ঠিক করে কোথায় চুরি করবে, সেমতে পরদিন সকালবেলা তারা ওই এলাকায় হাজির হয়। একত্রে চা পান করার পর তারা হাঁটতে থাকে এবং খেয়াল করে দেখে কোন বাসায় দারোয়ান ও সিসি ক্যামেরা নেই। কাঙ্খিত বাসা নির্ধারণের পর দুইজন বাসার ভিতরে প্রবেশ করে, বাকি ২-৩ জন বাহিরে পাহারায় থাকে। ১০ মিনিটের মধ্যে চুরি শেষ করে মালামাল ভাগ করে নিয়ে যে যার এলাকায় চলে যায়। পরদিন আবার অন্য কোথাও চুরির পরিকল্পনা করে।
জিজ্ঞাসাবাদে চোর চক্রের মূল হোতা জব্বার মোল্লা জানায়, তারা শুধুমাত্র মূল্যবান স্বর্ণালংকার ও টাকা চুরি করে। চোরাইকৃত এই স্বর্ণালংকার সে ঢাকার তাঁতীবাজারের দুইটি দোকান এবং গাজীপুরের টঙ্গী বাজারের একটি স্বর্ণের দোকানে বিক্রি করে, বিক্রয়লব্ধ টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। তার দেয়া তথ্যমতে টঙ্গীবাজারে স্বর্ণের দোকান হতে মো. আনোয়ার হোসেন ও তাঁতীবাজারে স্বর্ণের দোকানে অভিযান চালিয়ে মো. আব্দুল ওহাবকে চোরাই স্বর্ণ ক্রয় বিক্রয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে সর্বমোট আট ভরি ১০ আনা স্বর্ণ ও ৮২ ভরি তিন আনা রূপা উদ্ধার করা হয়।
