×

জাতীয়

খুলনা ইসিতে কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ!

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৩, ০৯:৩০ পিএম

খুলনা ইসিতে কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ!

প্রতীকী ছবি

খুলনা বিভাগ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের আওতাধীন অফিসগুলোতে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তাপ্রহরী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও গাড়িচালক পদে নিয়োগে কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, এই নিয়োগে নাকি কোটি টাকার বাণিজ্য করেছেন খুলনা আঞ্চলিক অফিসের নির্বাচন কর্মকর্তারা!

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগপত্র জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খানের কাছে পাঠিয়েছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে আবেদন করা আব্দুল্লাহ আল মামুন নামের এক ব্যক্তি।  তিনি জানিয়েছেন, আবেদনের পর এসএমএস আসলেও প্রবেশপত্র না আসায় তিনি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। ফলে নিয়োগবঞ্চিত হন এই চাকরিপ্রত্যাশী।

অভিযোগের বিষয়ে কমিশনার আহসান হাবিব ইসি সচিবকে তদন্ত করে নথি উপস্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছেন। এদিকে, জানা যায় নির্বাচন কমিশনার আহসান হাবিব বরাবর অভিযোগ দেয়া নিয়োগবঞ্চিত আব্দুল্লাহ আল মামুন নাকি ওই অভিযোগপত্র পাঠাননি। এ বিষয়ে তিনি নাকি কিছুই জানেন না। বিষয়টি নিয়ে ইসি কার্যালয়ে ধূম্রজাল তৈরি হয়েছে!

ইসি কার্যালয়ে সূত্রে জানা গেছে, গাড়িচালক পদে সাতজন, নিরাপত্তাপ্রহরী পদে ৪৭ জন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে ৬২ জনকে নিয়োগ দেয়ার লক্ষ্যে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই বিজ্ঞপ্তির অধীনে নিয়োগের লক্ষ্যে গত ২৮ মার্চ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

চাকরিপ্রত্যাশীরা  বলেন, চাকরির আশায় আবেদন করেছিলাম, মোবাইলে এসএমএসও এসেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে অ্যাডমিট কার্ড (প্রবেশপত্র) আর আসেনি। পরে শুনেছি, পরীক্ষা হয়ে গেছে। পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পেলে হয়তো আমরাও চাকরি পেতাম। তবে, অনেকেই বলেছেন যে নির্বাচন কর্মকর্তারা অর্থের বিনিময়ে নিজেদের পছন্দ মতো লোক নিয়োগ দিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনার আহসান হাবিব বরাবর চিঠি দেয়া প্রসঙ্গে অভিযোগকারী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমি তো কোনো অভিযোগ দিইনি। আর নিয়োগ বাণিজ্য হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি বলতে পারবো না।

খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা হুমাউন কবীর জানিয়েছেন,  যে কোনো প্রফেশনে যে কেউ অভিযোগ করতেই পারেন। যদি অভিযোগের সত্যতা থাকে তাহলে তার অধিকার আছে অভিযোগ করার। কমিশনার স্যার যদি তদন্তের নির্দেশ দিয়ে থাকেন, তাহলে সচিব স্যার ব্যবস্থা নেবেন। তাহলে এখানে আমার আর কোনো বক্তব্য নেই। যেহেতু কর্তৃপক্ষ আমলে নিয়েছে, তারা আমার কাছে জানতে চাইলে আমি জবাব দেবো।

তিনি আরো বলেন, অভিযোগপত্রে যাদের যাদের নাম লেখা হয়েছে, আমি তাদের কাউকে চিনি না। অভিযোগপত্রে এনআইডি নম্বর ও মোবাইল নম্বর দেয়া হয়েছে। যা আমার চিন্তার বাইরে। কারণ, যাদের আমি চিনি না বা জানি না, তাদের এনআইডি ও মোবাইল নম্বর কীভাবে পাবো?

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে খুলনা বিভাগে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তাপ্রহরী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও গাড়িচালক পদে নিয়োগ প্রদানে আর্থিক দুর্নীতি করেছেন খুলনার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবীর। যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চাকরির আবেদন করেও অনেকে লিখিত পরীক্ষার এসএমএস পাননি। শুধুমাত্র তার পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠানো হয়েছে এবং তারাই পরীক্ষার প্রবেশপত্র ডাউনলোড করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। আবার যারা এসএমএস পেয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকেই মাস্টার্স পাস এবং পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সহজ হওয়ায় ২৫ নম্বরের মধ্যে ২৫ পেয়েছেন। অথচ পরীক্ষার চূড়ান্ত তালিকায় তাদের নাম নেই।

অপরদিকে, লেখাপড়া জানেন না, নিজের নামও ঠিক মতো স্বাক্ষর করতে পারেন না, যেমন- খুলনা জেলার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এম. মাজহারুল ইসলামের গৃহকর্মী রেহেনা বেগম, রোল নম্বর- ১১২, পদবী- পরিচ্ছন্নতাকর্মী; এমন প্রার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। এসব পরীক্ষার্থীকে নিয়োগ কমিটির সদস্যরা বলেছেন, শুধুমাত্র পরীক্ষার খাতায় নাম, পদের নাম ও রোল নম্বর লিখে সাদা খাতা জমা দিতে। পরবর্তীতে নিয়োগ কমিটি তাদের পছন্দের প্রার্থীদের জমা দেওয়া সাদা খাতা পূরণ করে দিয়েছেন।

খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবীর ও তার অনুগত নিয়োগ কমিটির সদস্যদের মাধ্যমে ও তার অনুগত কয়েকজন জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে উক্ত নিরাপত্তাপ্রহরী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও গাড়িচালক পদে নিয়োগে প্রত্যেক প্রার্থীর কাছ থেকে আড়াই লাখ থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন। এক নিয়োগে খুলনার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা প্রায় এক কোটি টাকার অধিক নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন। এ নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে খোঁজ নিলে সত্যতা পাওয়া যাবে- এমনটাই অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

একই সঙ্গে খুলনা বিভাগের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা এই নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়িত বলেও অভিযোগ করা হয়েছে চিঠিতে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

এএসআই নিয়োগে লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ, দেখুন তালিকা

এএসআই নিয়োগে লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ, দেখুন তালিকা

বিরোধী দলের লংমার্চকে কেন্দ্র করে ছক কষছে আ. লীগ

রাশেদ খাঁন বিরোধী দলের লংমার্চকে কেন্দ্র করে ছক কষছে আ. লীগ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় জানালেন ইসি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় জানালেন ইসি

‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে যা ইচ্ছে তা লেখা নয়’

‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে যা ইচ্ছে তা লেখা নয়’

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App