আসছে ডেঙ্গুর মৌসুম বৃষ্টি বাড়াচ্ছে শঙ্কা
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২০, ১২:২১ পিএম
করোনা আতঙ্কের মধ্যে চলে এসেছে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুর মৌসুম। তার ওপর যোগ হয়েছে বৃষ্টি। যা এডিস মশার বংশবিস্তার ও সম্ভাব্য ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে ভাবনায় ফেলে দিয়েছে নগরবাসীকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার এই প্রকোপের মধ্যে যদি এডিস মশার প্রকোপ বাড়ে তাহলে মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। দেশে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনেও করোনার সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গু বিষয়েও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। গত বছর বাংলাদেশে এ রোগ মহামারি আকার ধারণ করেছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এখন চলছে কাল বৈশাখীর মৌসুম। বৃষ্টিপাত চলবে আরো কয়েক দিন। আর কীটতত্ত¡বিদরা বলছেন, এডিস মশার ডিম বৃষ্টির পরপরই ফুটে লার্ভা বের হবে। লার্ভা ১০ দিনের জীবন চক্র শেষ করবে। এক্ষেত্রে বৃষ্টির পর একই জায়গায় ১০ দিন পানি জমাট থাকলে সেখান থেকে এডিস মশা তৈরি হতে পারে, যদি সেখানে আগে থেকে এডিস মশার ডিম থাকে। গতকাল ওয়াসা ভবনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্বকালে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম জানান, বাসাবাড়ি ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবন বা চত্বরে মশার বংশবিস্তারে সক্ষম পরিবেশ পরিলক্ষিত হলেই রাজধানীর দুই সিটিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা করা হবে। এডিস মশা নিধনে আগামী ১০ মে’র পর থেকে এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা শুরু হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের (উত্তর-দক্ষিণ) কাছে মশা নিধনে এক বছরের ওষুধ মজুদ আছে। এর আগে ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ও এডিস মশার আবাসস্থল বিনষ্টকরণ কার্যক্রম মনিটরিং করার লক্ষ্যে উপসচিব ও নিম্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার ২৬ এপ্রিল এক সেল গঠন করে। সব মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের সিনিয়র সচিবকে এ সংক্রান্ত চিঠিও পাঠানো হয়েছে। কীটতত্ত¡বিদরা বলছেন, একটি স্ত্রী মশা কমপক্ষে ১০০টি ডিম দিতে পারে। ডিমগুলো যে কোনো পরিবেশে বেঁচে থাকার ক্ষমতা রাখে এবং আট মাসেরও বেশি সময় বেঁচে থাকতে পারে; এমনকি কঠিন শীতের মধ্যেও। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ্ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকে প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী কোনো না কোনো হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৯৫ জন। কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার জানান, ডেঙ্গুর মৌসুম মূলত এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত। তবে প্রতি বছরই এই জ¦রে আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়। চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু ভাইরাসজনিত রোগ। এই রোগ এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। ডেঙ্গু ভাইরাস চার ধরনের (স্ট্রেইন বা সেরো টাইপ)। এগুলো হলো ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ ও ডেন-৪। একজন মানুষ একধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত হলে ওই ভাইরাসে সে আর আক্রান্ত হয় না। তবে বাকি তিনটিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ ভোরের কাগজকে বলেন, বৃষ্টি হলেই এডিস মশা বাড়ে। কারণ স্বচ্ছ পানি পেলে মশার আগের ডিমগুলো থেকে লার্ভা বের হবে। লার্ভার ১০ দিনের জীবনচক্র শেষ করে এডিস মশা হিসেবে রূপ নেয়। প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, আমাদের দেশে এখন সারা বছরই ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যায়। যা প্রমাণ করে এডিস মশাও ১২ মাস থাকে। কোথাও কোথাও মশার ডিম আছে। বৃষ্টির কারণে যেখানেই পানি জমবে সেখানে লার্ভার সৃষ্টি হবে। তাই পানি জমতে দেয়া যাবে না।
