ওবায়দুল কাদের
বাজার নিয়ন্ত্রণে পজিটিভ অ্যাকশনে যেতে হবে
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৪, ০৫:৩২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
দ্রব্যমূল্য ও বাজার নিয়ন্ত্রণ নতুন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দ্রব্যমূল্য ও বাজার নিয়ন্ত্রণ আমাদের অগ্রাধিকার। এজন্য যে অ্যাকশনের দরকার সে অ্যাকশন নিতে হবে। শুধু হুমকি ধমকি দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। এখানে অ্যাকশন নিতে হবে, কৌশল অবলম্বন করতে হবে। কারণ আমাদের দেশের যে বাস্তবতা, সবকিছু ডান্ডা মেরে ঠাণ্ডা করা যায় না। কিছু কিছু কৌশলেও যেতে হবে এবং সেটা উপলব্ধি করতে হবে। কথায় কথায় কাউকে ধমক দিলে সমস্যার সমাধান হবে না। আমাদের পজিটিভ অ্যাকশনে যেতে হবে। যারা এর জন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে পজিটিভ অ্যাকশনে যেতে হবে।
সোমবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন ও সুজিত রায় নন্দি, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিলসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা।
বিএনপি কালো পতাকার নামে আবারো সন্ত্রাস ও সহিংসতার জানান দিচ্ছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচনে না এসে তারা যে ভুল করেছে সেজন্য বিএনপিকেই পস্তাতে হবে। সাংবিধানিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার শক্তি কারো নেই।
ওবায়দুল কাদের বলেন, সংবিধান ও জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী মেনে আজ যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ। কারো অগণতান্ত্রিক আহবানে সাড়া না দিয়ে জনগণ বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করেছে। দেশে নতুন করে গণতন্ত্রের বিজয় নিশান উড়িয়েছে। এজন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাদের কৃতজ্ঞতা জানাই।
কাদের বলেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক বিষয়কে রাজপথেই মোকাবিলা করবে। এক বিন্দু ছাড় দিবে না। বিএনপির হুমকি ধামকিতে কারো কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। এগুলো অসাড় ও ফাঁকা বুলির মতো চুপসে গেছে।
মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিকৃত তথ্য উপস্থাপনের সমালোচনা করে কাদের বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকারের ইতিহাস ডিঙিয়ে বিএনপি যে বিকৃত তথ্য বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর অপপ্রচার করে জাতিকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল তাদের সে অপচেষ্টা সফল হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে-বিদেশে স্বসম্মানে উচ্চারিত একটি নাম।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খানকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, মঈন খান সাহেবদের দল ৭৫’র বঙ্গবন্ধু হত্যার মধ্য দিয়ে তারপর ৩ নভেম্বর, একুশে আগস্টে শেখ হাসিনাকে প্রাইম টার্গেট করে হামলার মধ্য দিয়ে প্রমাণ করেছে তারা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজাকার, আল বদরের দল। গর্হিত বক্তব্য দেয়ার জন্য মঈন খানকে ক্ষমা চাইতে হবে জাতীর কাছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় মঈন খান ও তার দলের লোকজন কোথায় ছিল প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠাতা জিয়া পাকিস্তানি চর হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিল কি না সেটাই আজকে প্রশ্ন। বাংলাদেশের প্রথম সরকার তথা মুজিবনগর সরকারের অধীনে নিয়মিত বেতনভাতা ভোগ করতেন জিয়াউর রহমান। বিএনপি প্রমাণ করেছে যুদ্ধাপরাধীদের বিশ্বস্ত ঠিকানা হচ্ছে এই দল। বিএনপি এখনো সেই লিগ্যাসি বহন করে চলছে।
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না দেয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতে আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি। প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলাপ আলোচনা করেই সুফল পেয়েছে বাংলাদেশ। আমরা আশা করছি ভবিষ্যতেও আলোচনার টেবিলেই অমীমাংসিত বিষয়ে সমাধানে পৌঁছানো যাবে।
