সাঈদ-তাহির-মেরাজ হত্যা মামলায় শেখ হাসিনাসহ আসামি হলেন যারা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৪, ০৬:৫৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রংপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে শিক্ষার্থী আবু সাঈদ, আব্দুল্লাহ আল তাহির ও ফল বিক্রেতা মেরাজুল ইসলামের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পৃথক ৩টি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদসহ ৭৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত অন্তত ৩৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে এই ৩ মামলায়।
রবিবার (১৮ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এসব মামলা দায়ের করেন। আদালত শুনানি শেষে বিচারকরা সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকে মামলা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), রংপুরের সাবেক পুলিশ কমিশনার ও সাবেক ডিআইজিসহ ১৭ জনের নামে আরেকটি মামলা হয়েছে।
মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, রংপুর ডিআইজি আব্দুল বাতেন, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান, উপ-পুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন, সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান, সহকারী পুলিশ কমিশনার ইমরান হোসেন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম, পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সৈয়দ আমীর আলী এবং সুজন চন্দ্র রায়।
এছাড়াও অভিযুক্ত করা হয়েছে, বেরোবি ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক শামিম মাহফুজ, বেরোবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আসাদ মণ্ডল, গণিত বিভাগের শিক্ষক মশিউর রহমান, প্রোক্টর অফিসের কর্মকর্তা রাফিউল হাসান রাসেল, বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ এবং বেরোবি ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেনকে। এর বাইরে অজ্ঞাত অন্তত ৩০-৩৫ জনকে মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার বাদী হয়েছেন নিহত আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন করণে মামলা করতে দেরি হয়েছে। আমরা এই হত্যা মামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
আরেক শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল তাহির (২৮) হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ৪০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। নিহত তাহিরের বাবা মো. আব্দুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, পুলিশের রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি (বাধ্যতামূলক অবসর) আব্দুল বাতেন, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (বাধ্যতামূলক অবসর) মো. মনিরুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার উত্তম কুমার পাল, এডিসি (ক্রাইম) উৎপল কুমার রায়, এডিসি (ডিবি) মো. নুর ইসলাম পাটোয়ারী, কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোন্তাসির বিল্লাহ।
এছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ডা. দেলোয়ার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবুল কাশেম, জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক একেএম ছায়াদত হোসেন বকুল, যুগ্ম আহ্বায়ক মাজেদ আলী বাবলু, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুল মালেক, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হক প্রমানিক, মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সাফিয়ার রহমান সফি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল, সাবেক সদস্য সদস্য (সংরক্ষিত) নাছিমা জামান ববি, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল ইসলাম, ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রফিকুল আলম, ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম তোতা, ২৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহাদাৎ হোসেন, ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহাজাদা আরমান, ২৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কানা হারুন, ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ইদ্রিস আলী, জেলা যুবলীগের সভাপতি লক্ষ্মীণ চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সিদ্দিকী রনি, মহানগর সাধারণ সম্পাদক মুরাদ হোসেন, জেলা যুবলীগের নেতা ডিজেল আহমেদ, ২৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ সনু, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী মো. মানিক, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি শাহজাহানুর ইসলাম সৌরভ, সাধারণ সম্পাদক রিপন বাবু, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাব্বির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক তানিম আহসান চপল, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ আসিফ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী মো. মামুনের নামও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও অজ্ঞাত অভিযুক্ত করা হয়েছে আরও ২০-৩০ জনকে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই রংপুর মহানগর সিটি বাজার এলাকায় ছাত্র-জনতার সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আব্দুল্লাহ আল তাহির। তিনি ঢাকায় বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ গ্লাস অ্যান্ড সিরামিকসের অষ্টম সেমিস্টার শিক্ষার্থী ছিলেন।
অন্যদিকে ফল বিক্রেতা মেরাজুল ইসলাম মেরাজের মৃত্যুতে তার মা আম্বিয়া খাতুন বাদী হত্যা মামলা করেছেন। চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত কোতয়ালীতে দায়ের করা মামলায় মোট ২১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো অনেককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গত ১৯ জুলাই রংপুর সিটি বাজারের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেরাজ ।
মামলার অভিযুক্তরা হলেন- রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার উৎপল কুমার রায়, সহকারী কমিশনার ইমরান হোসেন, সহকারী কমিশনার আরিফুজ্জামান আরিফ, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুন, গণেশ, মজনু, ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল ইসলাম, ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রফিকুল আলম, ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম তোতা, ২৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহাদাৎ হোসেন, ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহাজাদা আরমান ও ২৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হারুন অর রশিদ।
আরো পড়ুন: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত পুলিশ সদস্যদের তালিকা প্রকাশ
এছাড়া আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের রমজান আলী তুহিন, লক্ষ্মীণ চন্দ্র দাস, নেংরা মামুন, নবী উল্লাহ পান্না, ডিজেল আহমেদ, নাছিমা জামান ববি, মুরাদ হোসেন, তুষার কান্তি মণ্ডল ও মেহেদী হাসান সিদ্দিকী রনিকে মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
