সড়কে সাত দিনে ২০৪ মৃত্যু
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ঈদুল ফিতরের ছুটিকে কেন্দ্র করে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির চিত্র উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার পরিসংখ্যানের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যাওয়ায় তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) জানিয়েছে, ঈদের সাত দিনের (১৭-২৩ মার্চ) ছুটিতে সারাদেশে ৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১০০ জন নিহত এবং ২১৭ জন আহত হয়েছেন। তবে বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রাথমিক হিসাবে, একই সময়ে ২৬৮টি দুর্ঘটনায় অন্তত ২০৪ জন নিহত এবং ছয় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
সরকারি হিসাবে অনেক দুর্ঘটনার তথ্য অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। উদাহরণ হিসেবে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত একটি বাস দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনা বিআরটিএর তালিকায় নেই। এমনকি ২১ মার্চের ২৪ ঘণ্টার তালিকায় কুমিল্লার কোনো ঘটনার উল্লেখও পাওয়া যায়নি।
ঈদের ছুটিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহতদের চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল) ঈদের আগের রাত থেকে পরদিন বিকেল পর্যন্ত ১৫১ জন আহত রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। অন্যান্য হাসপাতালেও একই চিত্র দেখা গেছে। অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইককে ঘিরে।
আরো পড়ুন : প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ, শুরু যেদিন
সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদযাত্রা সাধারণত ১৫ দিন ধরে বিবেচনা করা হয়, ঈদের আগে সাত দিন, ঈদের দিন এবং পরের সাত দিন। গত বছর এই সময়ে ৩১৫টি দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত হন। ২০২৪ সালে একই সময়ে ৩৭২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৪১৬ জন, যা ছিল এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এবারের ঈদযাত্রা শুরু হয় ১৭ মার্চ এবং ২৩ মার্চ পর্যন্ত সাত দিনের ছুটি শেষ হলেও এখনও অনেক প্রতিষ্ঠানে ছুটি চলমান রয়েছে। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও পুরোপুরি কাটেনি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৭ মার্চ ১২টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হন। ১৮ মার্চ ১৮টি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত এবং ৬২ জন আহত হন। ১৯ মার্চ ১১টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত ও ৭ জন আহত হন। ২০ মার্চ ছয়টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত ও ৩৬ জন আহত হন। ২১ মার্চ ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত এবং ২৫ জন আহত হন। ২২ মার্চ ১৯টি দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ ৩২ জন নিহত ও ৬০ জন আহত হন। আর ২৩ মার্চ ৯টি দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান জানান, বর্তমান তথ্য প্রাথমিক এবং পূর্ণাঙ্গ হিসাব পেলে প্রাণহানির সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। তার আশঙ্কা, এবারের ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় মৃত্যুর নতুন রেকর্ডও হতে পারে।
অন্যদিকে, মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরার সময় দুর্ঘটনা বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। কারণ, এই সময় সড়কে নজরদারি ও আইন প্রয়োগ তুলনামূলকভাবে কমে যায়।
