×

জাতীয়

জাতীয় ঈদগাহে মোনাজাত

‘হে আল্লাহ জালিমদের উত্তম বিচার করুন’

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৬, ০৯:০১ এএম

ত্যাগ, ত্যাগের মহিমা ও আনন্দের বার্তা নিয়ে দেশজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের সকালে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ঈদগাহ ও মসজিদে লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ঈদের জামাতে অংশ নেন। নানা শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে ঈদ জামাতের পরিবেশ।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ৭টায় রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত। এতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং বিশ্বমানবতার কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

মোনাজাতে আল্লাহর দরবারে হাত তুলে বিশেষ দোয়া করেন মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। তিনি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নির্যাতিত ও নিপীড়িত মুসলমানদের জুলুম-নিপীড়ন থেকে হেফাজত করুন এবং জালিমদের উত্তম বিচার করুন হে আল্লাহ। পাশাপাশি তিনি মুসলিম উম্মাহর শান্তি, নিরাপত্তা ও ইবাদত পালনের স্বাধীনতা কামনা করেন।

মোনাজাতে দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্যও দোয়া করা হয়। তিনি আল্লাহর কাছে বাংলাদেশের কল্যাণ, দেশের মানুষের নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় সংশ্লিষ্টদের নেক নিয়ত, সাহস ও প্রজ্ঞা বৃদ্ধির প্রার্থনা করেন। একইসঙ্গে মুসলমানদের ইবাদত-বন্দেগি ও কোরবানি কবুলের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে মিনতি জানান।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার হাজারো মানুষ জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল আজহার প্রধান জামাতে অংশ নেন।

নামাজ ও মোনাজাত শেষে রেওয়াজ মাফিক বুকে বুক মিলিয়ে কোলাকুলি আর কুশল বিনিময় করেন সবাই। এ জামাতে অংশ নিতে ভোর থেকেই ঈদগাহর মূল ফটকের বাইরে লাইন শুরু হয়। পায়জামা পাঞ্জাবি, টুপি পড়ে ও নানা ধরনের আতর সুগন্ধি মেখে সবাই জড়ো হন ঈদগাহ মাঠে। জামাত শুরুর সময়ের আগেই ঈদগাহ পরিপূর্ণ হয়ে যায়।

শিশু-কিশোরেরা আসে তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে। হাতে হাত ধরে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তারা মাঠে প্রবেশ করে। অনেকেই ঈদগাহে আসেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। এজন্য বড় বিছানার চাদর ও ম্যাট নিয়ে আসেন কেউ কেউ।

ঈদগাহে এবারো প্রবেশ করতে হয়েছে সারিবদ্ধভাবে। প্রধান ফটকে বসানো আর্চওয়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে নিরাপত্তা বিধি পালন করে। ঈদগাহ ময়দানে সহজে প্রবেশ ও বের হতে মৎস্য ভবন, বঙ্গবাজর, পল্টন, জিপিও মোড় ঘিরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী।

ঈদের শুভেচ্ছা বাণীতে কোরবানির আনন্দ দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষ এবং অভাবগ্রস্তদের সঙ্গে যথাযথভাবে ভাগাভাগি করে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেছেন, “ঈদুল আজহায় কোরবানির হিস্যা আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে সুষ্ঠু বণ্টনের মাধ্যমে সমাজে অংশীদারিত্ব, বৈষম্য হ্রাস, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হয়। কোরবানির ঈদ গরিব মানুষের সারা বছরের আমিষ যোগানে সাহায্য করে। সার্বিক অর্থে দেশের অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে চাঙ্গা করে।”

নির্ধারিত স্থানে কোরবানি করার পাশাপাশি কোরবানির বর্জ্য ফেলার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, “সমাজের সচ্ছল ও বিত্তবানদের আহ্বান জানাব, তারা যেন কোরবানির আনন্দ দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষ এবং অভাবগ্রস্তদের সঙ্গে যথাযথভাবে ভাগাভাগি করে নেন, মানব কল্যাণে এগিয়ে আসেন।”

ঈদুল আজহার মহান শিক্ষাকে ধারণ করে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সততা, সহনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও ত্যাগের আদর্শ প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে মানুষের ত্যাগ কবুলের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিশ্ববাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেছেন, পবিত্র ঈদুল আজহায় আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের ত্যাগ কবুল করেন। আমাদের মাতৃভূমিসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্ব ও মানবজাতির জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা দান করেন।

“একইসঙ্গে আমি বিশ্বজুড়ে শান্তি, সম্প্রীতি এবং নিরাপত্তার জন্যও মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করছি। ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হোক এই পবিত্র ঈদুল আজহা। আল্লাহ আমাদের কোরবানি ও ইবাদত কবুল করে নিন। তার অশেষ রহমত ও বরকতে আমাদের জীবন ভরে উঠুক শান্তি ও সমৃদ্ধিতে।”

রাষ্ট্রপতির কার্যালয় জানিয়েছে, ঈদের দিন বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বঙ্গভবনে রাজনৈতিক দলেন নেতা, কূটনীতিক, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও তার সহধর্মিনী রেবেকা সুলতানা।

তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুভেচ্ছা বিনিময়ের কোনো কর্মসূচি রাখেননি। ঈদের নামাজ শেষে তিনি বাবা জিয়াউর রহমান ও মা খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করবেন। দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী ‘বড়খানা’ (প্রীতিভোজ) অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

জাতীয় ঐক্য ও দেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ঐক্য ও দেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঈদের দিনে দুপুরে পাতে রাখুন ঝাল-মশলাদার মগজ ভুনা

ঈদের দিনে দুপুরে পাতে রাখুন ঝাল-মশলাদার মগজ ভুনা

বৃষ্টির মধ্যেও সিলেটে ঈদের জামাতে জনস্রোত

বৃষ্টির মধ্যেও সিলেটে ঈদের জামাতে জনস্রোত

গোপালগঞ্জে বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৫

গোপালগঞ্জে বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৫

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App