বড় দুর্যোগের ঝুঁকি এড়াতে আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জামে জোর
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বড় কোনো ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করছে সরকার। দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনতে এবং জানমালের সুরক্ষায় অত্যাধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম সংগ্রহের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় এ-সংক্রান্ত ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেন।
বাজেট প্রস্তাবনায় অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও এর অভিঘাত প্রশমনে উল্লেখিত কর্মকাণ্ড জোরদার করাসহ সম্ভাব্য বড় ধরনের ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি ও জানমাল রক্ষায় আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। এ লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১০ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ৯ হাজার ৬৯ কোটি টাকা ছিল।
তিনি বলেন, বড় ধরনের দুর্যোগে কেন্দ্রীয় সমন্বয়ের জন্য ন্যাশনাল ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার স্থাপনের জন্য জমি কেনা হয়েছে এবং নির্মাণ প্রকল্প নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ভূমিকম্প ও অন্যান্য দুর্যোগের জন্য প্রায় ৫২১ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক উদ্ধার যন্ত্রপাতি ও ১১টি এরিয়াল প্ল্যাটফর্ম ল্যাডার কেনা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির জন্য বেতার যোগাযোগ ১০০ ভাগ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ৭৮ হাজার ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবকের একটি সমৃদ্ধ অনলাইন ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, এখন দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে টোল-ফ্রি ১০৯০ নম্বরে ডায়াল করে মুহূর্তেই আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানা যাচ্ছে। স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সাহায্যে দুর্যোগ পূর্বাভাস কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। নদীভাঙন পর্যবেক্ষণে আধুনিক স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সচেতনতামূলক কর্মসূচির আওতায় নিয়মিত ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড় ও অগ্নিকাণ্ড সংক্রান্ত প্রস্তুতিমূলক মহড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই বাজেট প্রস্তাব পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি দেশের ৫৫তম বাজেট এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট উপস্থাপন।
