অর্থমন্ত্রী
সরকারি ঋণের চাপে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ কমছে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ বেসরকারি খাতের জন্য ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ সংকুচিত করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, অর্থনীতির ভাষায় এটিকে ‘ক্রাউডিং আউট’ বলা হয়। স্থানীয় ব্যাংকগুলোর মূল গ্রাহক হওয়া উচিত বেসরকারি খাত, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সরকারের ঋণ গ্রহণের কারণে সেই ভারসাম্য কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজেট ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ ধীরে ধীরে কমিয়ে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের সুযোগ বাড়ানোর হবে।’
তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক প্রোগ্রামিং ও বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকার আগের প্রচলিত ধারা থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। কারণ বিশ্ব অর্থনীতির প্রেক্ষাপট দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। অর্থনৈতিক চিন্তাভাবনা, বিনিয়োগের ধরণ এবং বিনিয়োগ মূল্যায়নের মানদণ্ডও বদলে যাচ্ছে। এ কারণে দেশের সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনার (পাবলিক ফাইন্যান্স) বিদ্যমান কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।’
তবে, এক্ষেত্রে রাতারাতি বড় ধরনের পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘গত দেড় দশকে গড়ে ওঠা পরিস্থিতি একদিনে বদলানো যাবে না। তবে সরকার ধীরে ধীরে সেই পথে এগোচ্ছে।’
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, ‘চলতি বাজেটে স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি নতুন প্রবণতা বা ধারা তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘এই ধারা অব্যাহত রাখা গেলে ভবিষ্যতে স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ আরও কমে আসবে। ফলে, ব্যাংকিং খাতের ঋণের বড় অংশ বেসরকারি খাতের বিনিয়োগে প্রবাহিত হবে, যা উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।’
অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য হলো এমন একটি আর্থিক কাঠামো গড়ে তোলা, যেখানে বেসরকারি খাত অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে আরও বেশি ভূমিকা রাখতে পারবে এবং ব্যাংকিং খাতেও সরকারি ও বেসরকারি ঋণের মধ্যে একটি স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে।’
