দ্য ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণ
বিভক্তির গভীর সংকটে মুসলিম ব্রাদারহুড
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
প্রায় এক শতাব্দী ধরে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও ধর্মীয় পরিমণ্ডলে প্রভাব বিস্তার করা মুসলিম ব্রাদারহুড এখন গভীর অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট-এর এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, দীর্ঘদিনের দমন-পীড়ন, নেতৃত্বের বিরোধ এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন কমে যাওয়ায় সংগঠনটি বর্তমানে ইতিহাসের অন্যতম দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।
আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ রিপার ধ্বংস, ক্ষতি ২২৫ কোটি ডলার
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মুসলিম ব্রাদারহুডের বর্তমান সংকটের বড় কারণ অভ্যন্তরীণ বিভক্তি। সংগঠনটির নেতৃত্ব কার্যত দুটি শিবিরে ভাগ হয়ে গেছে। একটি শিবিরের কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র লন্ডন, অন্যটির প্রভাববলয় তুরস্কের ইস্তাম্বুলকে ঘিরে। নেতৃত্বের বৈধতা, অর্থের নিয়ন্ত্রণ এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছে।
এই দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়ছে সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়েও। নেতৃত্বের কোন্দল ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার অভাবে তরুণ কর্মীদের একটি অংশ হতাশ হয়ে পড়ছেন। অনেকে সংগঠন থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন বলেও বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: দিল্লি হাইকোর্টসহ ৬ স্থানে বোমা হামলার হুমকি
২০১৩ সালে মিশরে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই মুসলিম ব্রাদারহুড কঠোর সরকারি দমন-পীড়নের মুখে রয়েছে। সংগঠনটির শীর্ষ নেতাসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী কারাগারে রয়েছেন, আবার অনেকে দেশ ছেড়ে বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। দীর্ঘদিনের এই চাপ সংগঠনটির সাংগঠনিক সক্ষমতাকেও দুর্বল করে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক পরিসরেও বদলে গেছে পরিস্থিতি। একসময় তুরস্ক ও কাতার ব্রাদারহুডের নেতাদের আশ্রয় ও রাজনৈতিক সমর্থন দিলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আঞ্চলিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে তারা মিশর ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পথে এগিয়েছে। ফলে নির্বাসিত ব্রাদারহুড নেতাদের কার্যক্রমের পরিসরও আগের তুলনায় সংকুচিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: আগামী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী কি ভারত সফরে যাচ্ছেন?
উত্তর আফ্রিকাতেও সংগঠনটির আদর্শিক ও রাজনৈতিক মিত্ররা আগের অবস্থানে নেই। তিউনিসিয়া ও মরক্কোর মতো দেশগুলোতে পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারা নানা চাপে পড়েছে।
দ্য ইকোনমিস্ট-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় নজরদারি, রাজনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তন এবং নতুন প্রজন্মের ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার কারণে মুসলিম ব্রাদারহুডের পুরোনো জনপ্রিয়তাও অনেকটাই কমেছে। নেতৃত্বের বিভক্তি ও ধারাবাহিক ব্যর্থতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমর্থন হ্রাস পাওয়ায় সংগঠনটির সামনে এখন বড় প্রশ্ন- এই গভীর সংকট কাটিয়ে তারা আদৌ ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না।
